রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবারো রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
প্রহারের পর আটকরা হলেন, পুঠিয়ার কাঠালবাড়িয়ার রওশন ইয়াজ দানীর ছেলে নাহিদ (২৩) এবং নাটোরের একডালা বাবুপুকুরের আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম (২২)। এদের মধ্যে সাদ্দাম নাটোর সিরাজউদ্দৌলা কলেজের বিএসএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
রোগীর স্বজনরা জানান, গত সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রক্তজনিত সমস্যা নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন নাটোরের চাঁদপুর এলাকার মায়িদা মিঞার ছেলে জয়নাল (৭০)। সকাল থেকে তেমন চিকিৎসা না পাওয়ায় দুপুর ১২ টার দিকে স্বজন নাহিদ ও সাদ্দামের সাথে কথাকাটাকাটি হয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক কে.এম সালাউদ্দিনের। এক পর্যায়ে সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক গিয়ে নাহিদ ও সাদ্দামের উপর হামলা চালায়। তাদের বেধড়ক মারধোরের পরে হাসপাতালের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে নাহিদ ও সাদ্দামকে পুলিশে সোপর্দ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পুলিশ তাদের আটক করে নগরীর রাজপাড়া থানায় নিয়ে যায়।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ জানান, রামেক হাসপাতালে মারধরের ঘটনায় দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের অবস্থা শান্ত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকের অবহেলায় মহসিন আলী নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। এর জেরধরে স্বজনরা প্রতিবাদ করলে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং রামেক ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু ও রায়হানের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর অপু এবং তার ক্যাডাররা মৃত রোগীর ছেলে আনারুল ও রফিকুল ইসলাম বাবুকে পিটিয়ে জখম করে। এরপর দুজনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মানবিক বিবেচনায় তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ইত্তেফাক/এমএইচ