রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যার দুই বছর পরও হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয় হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিলন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নাসরিন আখতার রেশমা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিলন হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ১১জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক। অভিযোগপত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শিক্ষক শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর ফেসবুকে দেয়া দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের স্ট্যাটাসের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়। ওই বছর ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। পরে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এখনও আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আব্দুস সামাদ পিন্টু, আরিফুল ইসলাম মানিক, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ, আল মামুন, আরিফ, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহিম খলিল ও নাসরিন আখতার রেশমাকে আসামি করা হয়। তারা সবাই গ্রেফতার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘এই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত যুবদল নেতা উজ্জ্বলসহ ১১ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছে। মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ আগামী শুনানিতে অভিযোগ গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এ হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সমানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ারদাতুল আকমাম বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা যে দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম আজ আবারও একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। স্যার আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না এটা ঠিক, তবে হত্যাকারীরা শাস্তি পেলে স্যারের পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থীরা একটু হলেও প্রশান্তি পাবে।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম মোস্তাফিজুর, আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এএম।