অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে এগিয়ে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী পান্না

চলমান জেএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কক্ষে সামনের বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে আসিফা আক্তার পান্না। অন্যদের মতোই স্বাভাবিকভাবে সে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। হল রুমের সকল পরীক্ষার্থীদের দিকে নজর দিলে তার মুখটাই প্রথমে ভেসে উঠে। কারণ বিধাতা তাকে সব দিক থেকে যোগ্যতা দিলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মেয়েটি জন্ম থেকে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী, অন্যদিকে দরিদ্রতা পিছু ছাড়েনি তার পরিবারের। একমাত্র অদম্য ইচ্ছে আর মানসিক শক্তি তাকে এগিয়ে চলতে সাহায্য করছে। 
 
পান্না উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের জারিয়া গ্রামের মৃত মুক্তার উদ্দিনের মেয়ে ও স্থানীয় এন জারিয়া-ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
 
কথা হয় পান্নার মা নারগিস আক্তারের সাথে, তিনি জানান বড় মেয়ে পান্না ও ছোট দুই ছেলেকে রেখে তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর অভাবের সংসারে নিরুপায় হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে দর্জির কাজ শুরু করেন। এতে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে বড় কষ্টে সংসার ও ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চলে। মেয়ের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে সংসারে অভাব থাকা সত্যেও কষ্ট করে তার লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছি।
 
পান্নার সাথে কথা বলতে চাইলে সে কাগজে লিখে জানায়, এবার তার পরীক্ষা বেশ ভাল হচ্ছে । সুযোগ পেলে সে তার লেখা পড়া অনেকদূর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে চায়।
 
সালথী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ জানান প্রতিবন্ধী হিসেবে তার জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ থাকলেও প্রতিদিন নির্ধারিত সময়েই তার পরীক্ষা শেষ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান খন্দকার জানান, পান্না খুবই শান্ত স্বভাবের এবং লেখা পড়ার প্রতি খুবই আগ্রহী। অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলে যে কোন কিছু জয় করা যায়। পান্না তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী পান্নার ইচ্ছা শক্তিকে দমাতে পারেনি। 
 
ইত্তেফাক/এমআর/এমএআর