১৭ বছর হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত শিপন

ঢাকার সূত্রাপুরের দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে মারামারিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার মামলায় প্রায় ১৭ বছর হাজতবাসের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন শিপন। মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে শিপন মুক্তি পান।
 
ওই কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বনিক জানান, দুপুরে তার জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছে। পরে তা যাচাই-বাচাই শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিপনকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি লাভের পর কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া কিছু টাকা নিয়ে বাসে করে ঢাকার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন শিপন।
 
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল শিপনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করে। ওই প্রতিবেদন গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে ৮ নভেম্বর শিপনকে আদালতে হাজির ও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নথি তলব করেন।
 
নির্দেশ অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ গত ৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় আদালত শিপনকে কাঁঠগড়ায় ডেকে তাঁর পরিচয় জানতে চান। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর হাজতবাস থাকার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
 
পরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মো. শিপনকে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। একই সঙ্গে আগামি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নি®পত্তি করতে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজকে নির্দেশ দেন।
 
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সুত্রাপুরে দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে মাহতাব নামে এক ব্যক্তি খুন হন। এ খুনের ঘটনায় মো.জাবেদ বাদি হয়ে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই নম্বর আসামি করা হয় মো.শিপনকে। এজাহারে তার পিতার নাম ছিলো অজ্ঞাত। পরে  ১৯৯৫ সালে দেয়া অভিযোগপত্রে বাবার নাম উল্লেখ করা হয় মো. রফিক।
 
পরবর্তীতে ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে সে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চার্জশীট দাখিলের ৫ বছর পর ২০০১ সালে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর এ পর্যন্ত সাক্ষী নেয়া হয়েছে দুজনের। মোট সাক্ষী রয়েছেন ১২ জন।
 
এই মামলার কোনো অগ্রগতি ছিলনা। প্রায় প্রতি মাসেই নির্ধারিত তারিখে শিপনকে আদালতে হাজির করা হলেও হাজির হতো না কোনো সাক্ষী। তাই শেষ হচ্ছিল না মামলার বিচারকাজও। পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ