মেহেরপুরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, মামলার তদন্তে ধীরগতি

মেহেরপুর সদর উপজেলায় কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় একজন গ্রেফতার হলেও ধরা ছোয়ার বাইরে বাকি চার আসামি। ঘটনার ৩৬ দিন অতিবাহিত হলেও ওই চারজন গ্রেফতার না হওয়ায় উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে ফাতেমা জান্নাত ঝিলিকের পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়ার ঝন্টু শাহের মেয়ে এইসএসসি পাশ ছাত্রী ঝিলিক। পরিবারের লোকজনের খবরে সেখানে গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। লাশের কাছে পাওয়া যাওয়া ঝিলিকের লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে প্রধান অভিযুক্ত হিরা খাতুনকে আটক করে পুলিশ। রাতেই নিহতের বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। একজনকে গ্রেফতার করা হয়।বাকি চারজন পলাতক রয়েছে। আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
 
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা আননুন জায়েদ জানান, মামলার তথ্য ও সাক্ষী সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। মামলার অধিকতর তদন্তকাজ চলছে। তাই চার্জশীট জমা দিতে  বিলম্ব হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, মন্ডলপাড়ার মাসুদ হোসনের ছেলে মেহেরপুর সরকারি কলেজের ছাত্র নিলয় হোসেনের সঙ্গে ঝিলিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার নিলয়ের ফুফু হিরা খাতুন আসেন ঝিলিকের কাছে। নানাভাবে ঝিলিক ও তার পরিবারের সদস্যদের শাসাতে থাকে। এক পর্যায়ে ঝিলিককে চড়-থাপ্পড় মারেন তিনি। নিলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে এর চেয়েও বড় পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন হিরা। এতে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে এ কারণে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা হয়।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ