‘নৌকা’র আশা করছেন আইভী ক্ষমা চাইতে বললেন শামীম

আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও স্থানীয়দের পাশাপাশি এই নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার ঢেউ গড়াতে শুরু করেছে দেশব্যাপী। দেশে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রথম খবর হয় ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তালিকায় নেই আইভী’। এই খবরের পরদিনই, অর্থাত্ গতকাল বুধবার বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী জানান দিয়ে বললেন ‘এবারো নির্বাচন করব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের তালিকায় নাম না থাকলেও আইভির ব্যক্ত আশাবাদ ‘ইনশাল্লাহ্, শেখ হাসিনা (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী) নৌকা আমাকেই দেবেন।’ আর স্থানীয় রাজনীতিতে আইভি’র প্রকাশ্য ‘দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী’, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তাকে ‘ক্ষমা’ চাইতে বলেছেন। সর্বশেষ খবর, বিএনপিও এই নির্বাচনে থাকতে চায়।                 আজ বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠেয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নাসিক নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে দলটির নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে।

 
নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের তত্পরতা শুরু হয়ে গেলেও উভয় দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাকিয়ে আছেন মূলত নিজ দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকে। মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে সেই আনোয়ার হোসেন (নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি) গতকাল সাংবাদিকদের বলেন ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নে বিশ্বাসী, সেই কারণে আমি মনে করি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি তার সেই উন্নয়নের ধারাকে নারায়ণগঞ্জেও ধরে রাখতে পারব।’ জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদিরের মতে, মহানগর আওয়ামী লীগ মেয়র পদে যে প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে তা এখনো কেন্দ্রে যায়নি, কেন্দ্রে গেলেও সেটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে বলে মনে হয় না।’
 
প্রসঙ্গত, দলের সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী আনোয়ার হোসেনের পাশাপাশি আরো দু’জনের নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা হলেন-সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান ও বন্দর থানার সভাপতি আবদুর রশিদ।
 
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে শুরুতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তৈমুর আলম খন্দকারও যুবলীগের কাদিরের মতো করেই বলেছেন ‘আমরা নির্বাচনে যাব কিনা, গেলে কে মনোনয়ন পাবেন সেটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারপারন বেগম খালেদা জিয়া।’ উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে তৈমুর আলম ‘দলীয় সিদ্ধান্তে’ নির্বাচন থেকে সরে যান।
 
নাসিকের প্রথম নির্বাচনে (যেটি ছিল নির্দলীয়) আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান। বর্তমান জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য শামীম ওসমান এবার আর মেয়র পদে লড়ছেন না। তবে এবারো নাসিক নির্বাচনের মাঠ রাজনীতিতে আইভির প্রধান দলীয় ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে ঘুরে-ফিরে এরইমধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন শামীম ওসমান-ই। গতবারের মতো এবারো পরস্পরের উদ্দেশে ইতোমধ্যে দু’জনের বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
 
গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’-এর প্যানেল পরিচিতি সভায় শামীম ওসমান বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আমি মনে করেছিলাম আইভীর নাম প্রস্তাবনায় আসবে, কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় কেউ আইভির নাম প্রস্তাব করেনি।’ সিটি মেয়রকে উদ্দেশে করে শামীম ওসমান বলেন, তোমার ১০ বার বলেছিলাম মাফ চাও, ক্ষমা চাও, কিন্তু তুমি তা করোনি।
 
নগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত তালিকায় নাম না থাকা প্রসঙ্গে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইভি বলেন, ‘নাম না থাকা অস্বাভাবিক কিছু না, এটা হতেই পারে। তবে আমি অবশ্যই মনোনয়ন চাইব। প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে আছেন, দেশে আসলে দেখা করতে যাব।’ গতকাল সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জবাসীর দোয়া চেয়ে আইভি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে অতীতে আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব।’ সমস্ত ঘটনা সম্পর্কে দু-তিনদিন পর গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বলেও জানান মেয়র। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশি বাধার কারণে আওয়ামী লীগের সভা আজ বায়তুল আমানে হয়নি, পরে তা পাইকপাড়ার মিউচুয়্যাল ক্লাবে করেছি।’
 
এদিকে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো এবার নাসিক নির্বাচনেও থাকতে চায় বিএনপি। তবে এই নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, বিএনপি অতীতে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সে ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বিএনপি নির্বাচনে থাকতে চায় কি না, এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান জানান, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাসী। গত কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে দখল হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। তারপরও বিএনপি স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে ছিল। এবার নাসিক নির্বাচনেও থাকার সম্ভাবনা আছে।
 

ইত্তেফাক/এএন