রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠের সাহাপুর গ্রামে দুই স্কুল ছাত্রীর একসঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ থানায় মামলা হয়েছে। নগরীর মতিহার থানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলা দুইটি দায়ের হয়। এদিকে মামলা দায়েরের আগেই বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক বিপ্লব মাস্টারকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাহাপুর গ্রামের মুক্তার আলীর মেয়ে উম্মে মারিয়া সম্পা (১৪) ও নজরুল ইসলামের মেয়ে তামিমা খাতুন বর্ণা (১৩)সম্পার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করে। তারা একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। মৃত্যুর আগে তারা দুটি ‘সুইসাইড নোট’ লিখে রেখে যায়। সম্পার সুইসাইড নোটে গ্রেপ্তার বিপ্লব হোসেনের (২৩)নাম উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুুলিশ জানায়, গ্রেফতার বিপ্লব সাহাপুর পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের অর্থনীতিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি সম্পার স্কুলের সামনের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক।
তবে শিক্ষার্থী বর্ণার সুইসাইড নোটে উল্লেখিত মুন্নাকে (১৮) শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এলাকাবাসী ও পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকেই মুন্না পলাতক।
সুইসাইড নোটের লেখা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য না দিলেও সম্পার পরিবারের দাবি, বিপ্লব হোসেনের সঙ্গে সম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সম্পা তার মৃত্যুর জন্য বিপ্লবকে দায়ী করে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করে।
অন্যদিকে বর্ণার পরিবারের দাবি, বেলঘরিয়া এলাকার আবদুল কাদেরের বখাটে ছেলে মুন্না বর্ণাকে উত্ত্যক্ত করত। বখাটে মুন্না তার অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথ আটকে বর্ণাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। কখনও কখনও বাড়িতে গিয়েও হাজির হতো। এসব কারণে বর্ণা অতিষ্ঠ ছিল। আর এ কারণে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে।
মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, দুই স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী হয়েছেন সম্পার মা শরিফা বেগম। আরেক মামলার বাদী বর্ণার বাবা নজরুল ইসলাম।
ওসি আরো জানান, দুই মামলায় আলাদা আলাদা করে মুন্না ও বিপ্লবকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিপ্লবকে পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে। অন্যদিকে মুন্নাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নগরীর মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেন জানান, সুইসাইড নোটে নিজের নাম নিয়ে বিপ্লব আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় আসলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমএইচ