রংপুর চিনিকলের গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ ও উচ্ছেদ ঘটনায় সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরো দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এনিয়ে গত তিন দিনে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার সাপমার ইউনিয়নের তরফকামাল কামারপাড়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে সরোয়ার হোসেন (৪২) ও তরফকামাল খামারপাড়া গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আকবর আলী (৫০)।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে বিকালের মধ্যেই আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত. গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মরমুর ছেলে স্বপন মরমু বাদি হয়ে বুধবার গভীর রাতে পাঁচ থেকে ছয়শত জন অজ্ঞাত আসামি করে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের উচ্ছেদের সময় সাঁতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় কোনো এজাহার নামীয় আসামি করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মাদারপুর গ্রামের ভুবেন মার্ডি বলেন, আমরা কেউ জানি না কীভাবে এ মামলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের ওপর হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটেছে। এ মামলায় কেন অজ্ঞতনামা আসামি হবে। যদি কোনো মামলা হয়ে থাকে সেটা রহস্যজনক।
তবে আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য সাঁওতালদের নাম ভাঙিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়দের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। কোন মহল এ কাজ করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাঁওতালদের ভূমি উদ্ধার কমিটির পক্ষে থেকে এরই মধ্যে আইনি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী রবিবার অথবা সোমবার বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে। স্বপন মুরমুর এই মামলার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালের কোনো যোগসূত্র নেই। এটি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
ইত্তেফাক/কেকে