মির্জাপুর ও ফরিদগঞ্জে ১০ টাকা কেজির চাল লুটপাটের অভিযোগ!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সরকারি দলের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতা ও ডিলারের কারসাজিতে সরকারের খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী এই মহলটি সিন্ডিকেট করে প্রায় ১৫ হাজার হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত চাল কালবাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ১০ টাকা কেজির চাল কালবাজারে বিক্রি ও লুটপাটের অভিযোগে ৩নং ফতেপুর ইউনিয়নের ডিলার এমারতের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উঠায় তার ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বানাইল ইউনিয়নের ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়।

 
চাল বিতরণের জন্য ১৪ নং ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলার ও ২৮ জন ট্যাক অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই ডিলার ও ট্যাক অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা ক্ষমতাসীন দলের। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ তালিকা প্রেরণ করলেও দলীয় প্রভাব বিস্তার করে ডিলার ও ট্যাগ অফিসারগণ যোগসাজশ করে ২০১১ সালের তালিকা থেকে তাদের নিজেদের পছন্দমত নামের তালিকা প্রণয়ন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাদের নামের বিপরীতে কার্ড দেয়া হয়েছে তারা অনেকেই এ বিষয়ে অবহিত নন বলে জানা গেছে। আবার মৃত, বিত্তশালী ও দলীয় লোকজনের নামে দেয়া হয়েছে কার্ড। ফলে বাদ পড়েছে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের লোকেরা। ডিলারগণ ডিওর মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে খাদ্য অফিসের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ট্যাগ অফিসার ও সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই চাল কালবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। দু’-একজন ডিলার প্রশাসন ও জনসাধারণকে দেখানোর জন্য কিছু কিছু চাল বিতরণ করলেও ৩০ কেজির স্থলে ১৮-২০ কেজি করে চাল বিতরণ করছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ বলেন, চাল বিতরণে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তদন্ত করে ঐ ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে একজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে এবং এক ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।
 
এদিকে ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের সবকটিতেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ডিলার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া হতদরিদ্রের তালিতায়ও স্থান পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। যদিও ডিলার নিয়োগ, তালিকা প্রণয়নসহ সার্বিক কাজেই পরামর্শ দিচ্ছেন সংসদ সদস্য। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে ঘুরে এসব অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
১নং বালিথুবা (উঃ) ইউনিয়নের  ডিলার পয়েন্টে গেলে ডিলার মোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহিবুল্লাহর উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিকট ভুক্তভোগীরা তাদের কার্ড দেখিয়ে অভিযোগ করেন যে, অন্যান্য ইউনিয়নে তৃতীয় কিস্তির চাল বিক্রি হলেও আমরা পেয়েছি মাত্র ২ বার। তাছাড়া, ওয়ার্ড মেম্বারগণ তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ করে টাকা নিয়ে তাদের কার্ড দিয়েছে। ১নং ইউনিয়নের অধিকাংশ কার্ডের নাম ফ্লুয়েট দিয়ে মুছে অন্য কারো নামে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু তালিকায় আছে ভিন্ন নাম। ২নং বালিথুবা (দঃ) ইউনিয়নের কার্ড বিতরণে এমন একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট।
 
খাদ্য কর্মকর্তা শামসুল হুদা বলেন, ১, ২, ৩ ও ৯নং ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে জটিলতা ও ডিও’র টাকা ঠিকমত জমা দিতে না পারায় ১ম কিস্তি অর্থাত্ সেপ্টেম্বর মাসের চাল উত্তোলন করতে পারেনি ঐ সকল ইউনিয়নের ডিলারগণ। তাদের কারণে ৪টি ইউনিয়নের হতদরিদ্ররা কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
 
সার্বিক অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  জয়নাল আবদিন   বলেন, ইতিমধ্যে আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থাও নিচ্ছি।  প্রমাণসাপেক্ষ কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে আমি তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিব।
 

ইত্তেফাক/এএন