সেন্ট মার্টিনে আবর্জনা অপসারণে কাজ করছে কোকাকোলা

বিশ্বব্যাপী পার্টনারশিপের অংশ হিসেবে কোকা-কোলা বাংলাদেশ ওশান কনজারভেন্সির কান্ট্রি কোঅরডিনেটর কেওক্রাডং বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে সমুদ্র ও জলপথে আবর্জনার ফলে তৈরি দূষণ কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
 
পরিবেশকে আবর্জনা মুক্ত রাখার পাশাপাশি সাগর ও সাগর পাড়ে দূষণের মূল কারণ খুঁঁজে বের করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি এধরনের উদ্যোগ নেয়।
 
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপে দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকত পরিষ্কারে অংশ নিয়েছে। গত ছয় বছর ধরে সংস্থা দুটি একসাথে কাজ করছে। 
 
ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী প্রয়াস। যা হাজার হাজার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে সমুদ্র সৈকত, লেক ও জলপথ থেকে মিলিয়ন পাউন্ডের আবর্জনা ও  ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে।
 
গত পাঁচ বছরে কোকা-কোলা বাংলাদেশ এবং কেওক্রাডং বাংলাদেশ এর সহায়তায় ২৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী  সেন্ট মার্টিন্স থেকে প্রায় ৬ হাজার কেজি সামুদ্রিক আবর্জনা পরিষ্কার করেছে।
 
এই বছরের উদ্যোগের বিশেষ দিক ছিলো জনসচেতনতা তৈরী; যার মধ্যে কমপেক্ষ ৬ হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে স্থানীয় লোকজন ও সরকার প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন এই কার্যক্রমে।
 
এসময় সেন্ট মার্টিন্স দ্বিপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ এর প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মাদ হাবিব এই কার্যক্রমে অংশ নেন। সে^চ্ছাসেবীদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
আবর্জনা অপসারণের উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবীরা সেন্ট মার্টিন্সে জড়ো হন। সেখানে কেওক্রাডং এর কো-অর্ডিনেটর মুনতাসির মামুন এই উদ্যোগ ও কার্যক্রম সমন্ধে স্বেচ্ছাসেবীদের সম্যক ধারনা দেন। পাশাপাশি অংশগ্রহনকারিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। শুক্রবার স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এই আবর্জনা পরিষ্কার অভিযান সম্পন্ন হয়।
 
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের ভবিষ্যত প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নেয়া হয় বেশ কিছু সচেতনতামুলক কার্যক্রম। যার আওতায় পরিবেশ ও দ্বীপ রক্ষায় করণীয় বিষয়ক দিক নির্দেশনা সম্বলিত খাতা বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাতে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। যেখোনে সেন্ট মার্টিন্সের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ ও পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা সভায় উঠে আসে দ্বীপের বর্তমান অবস্থা ও সৌন্দর্য্য রক্ষায় করণীয় সমন্ধে দিক নির্দেশনা। দ্বীপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করার ও পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেন নুর মোহাম্মাদ। 
 
ইত্তেফাক/এমএইচ