আর্সেনিকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার তারানগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে। সুপেয় পানির অভাব এলাকাবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। এ গ্রামের ১৬৫টি টিউবওয়েলের মধ্যে ১৬০টিতে অধিক মাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে। গ্রামের আড়াই হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৮শ’ জন আর্সেনিক আক্রান্ত এবং ধরা পড়ার পর গত ২০ বছরে প্রায় ২শ’ মানুষ মারা গেছেন।
মেহেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫কি.মি দূরে মুজিবনগর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম তারানগর। জয়পুর-তারানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, এই গ্রামের লোকসংখ্যা ২ হাজার ২৫৮ জন। গ্রামের ভূ-গর্ভস্থ পানিতে মাত্রারিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে।
খাওয়ার সুপেয় পানির পাশাপাশি আর্সেনিকে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষেরা চিকিত্সার জন্য অর্থ যোগাড় করতে পারছেন না। ফলে বিনা চিকিত্সায় তাদের মরতে হচ্ছে। অপরদিকে গ্রামের সুপেয় পানির উত্সগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের কাছে বার বার ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই গ্রামের রোকনুজ্জামান।
মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মো. জামাল জানান, আর্সেনিক আক্রান্তদের নতুন কোনো তালিকা নেই। তবে নতুন করে তালিকাভুক্তির কাজ চলছে। শিগগিরই প্রকাশ করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আর্সেনিক আক্রান্তদের জন্য সরকারিভাবে এন্টি অক্সিডেন্ট নামে একটি ওষুধ আগে সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে কিছুটা ভালো থাকার জন্য আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীরা বাজার থেকে এ ওষুধ কিনে খেতে পারেন।
মেহেরপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মুন্সি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মেহেরপুর জেলার ভোলাডাঙ্গা, আলমপুর আমঝুপি ও তারানগরসহ কয়েকটি এলাকার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তারানগরের অবস্থা ভয়াবহ। ওই গ্রামের মাটির ভূ-গর্ভে পাথর থাকায় ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ ফুটের বেশি পাইপ বসানো সম্ভব নয়। যে কারণে আর্সেনিকমুক্ত পানি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সিডকো’র মতো চলমান আর্সেনিক রিমোভাল প্লান্ট কিংবা মিনি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা গেলে গ্রামবাসীকে আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করানো সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/এএন