গোদাগাড়ী প্রধান ডাকঘরের দরপত্র আহ্বানের আগেই সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। রাজশাহী মহানগরীর এক নারী সেখানে শ্রমিক নিয়ে ভবনের সংস্কার ও রঙ করেন। দরপত্র আহ্বান ছাড়াই কে বা কারা সংস্কার কাজ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকঘরের কর্মকর্তারাই। তবে বিষয়টি জানার পর সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
গোদাগাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আবদুল মতিন জানান, গত ১৫ নভেম্বর হঠাত্ করেই একজন নারী মিস্ত্রীসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অফিসের সংস্কার কাজ করতে চান। তিনি ওই নারীর পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তিনি পরিচয় দেননি। এ সময় অফিস সংস্কারের টেন্ডার ও কাজের সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। তবে ওই নারী তাকে বলেছেন, আমি অফিসের রঙ, টাইলস ও এসি স্থাপনের কাজ করব। ঢাকা হেড অফিস থেকে কাজের অর্ডার হয়েছে। এ নিয়ে আবদুল মতিন রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও সংস্কার কাজের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তাকে জানান।
ওই নারীর মোবাইল নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গোদাগাড়ী পোস্ট অফিসের যে কাজ হচ্ছে সেটা আমি দেখছি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে শ্রমিকদের কাছ থেকে খবর নিয়ে ঠিকাদার মজিবুর হক মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডাক বিভাগের হেড অফিসের ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন ও আমি গোদাগাড়ী ডাকঘর সংস্কারের জন্য দেখতে গিয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের মৌখিক নির্দেশে আমি কাজ শুরু করেছি। টেন্ডারের আগেই কাজ করা অনিয়ম কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মিলন বলেন, টেন্ডার হতে ছয় মাস দেরি হবে। টেন্ডারের পর অন্য ঠিকাদারও কাজটা পেয়ে যেতে পারেন। এজন্য নিজের টাকা খরচ করে আগে ভাগেই কাজটা করে রাখছি। পরে বিল তুলে নেবো। এটি কোনো অনিয়ম নয়।
গোদাগাড়ীর ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, সংস্কার কাজের কোনো সিডিউল ও ওয়ার্ক অর্ডার দেখাতে না পারায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন