ঘিওরে রান্নার এলপি গ্যাসে চলছে অটোরিকশা!

ঘিওরে সিএনজি অটোরিকশা গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে রান্না ঘরের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। তিতাস গ্যাস সিএনজি এবং দাহ্য আইনে রান্না করার গ্যাস গাড়িতে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এক্ষেত্রে এখানে মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি। ফলে যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

 
ঘিওর থেকে জিয়নপুর সড়কের কুস্তা গ্রামের রাস্তা গত বন্যায় হঠাত্ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে রাস্তাটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওপারে আটকা পড়ে প্রায় অর্ধশত সিএনজি গাড়ি। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এ সব গাড়িতে। তাই বাধ্য হয়েই চালকরা তাদের গাড়িতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন রান্না ঘরের সিলিন্ডারের গ্যাস। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেই নয় জীবিকার টানে, কারো লোন করে কেনা গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতেই সচল রাখছেন তাদের গাড়ির চাকা। ঘিওর বাসস্ট্যান্ড থেকে কুস্তা ভাঙ্গা পর্যন্ত যাত্রীদের নেমে আবার ওপারে গিয়ে অন্য সিএনজি গাড়িতে উঠতে হয়। প্রতিদিন নারচী, ছোট রঘুনাথপুর, খলসী, বিনোদপুর, পারমাস্তুল, বিষ্ণপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে। বিকল্প উপায় না থাকায় ঝুঁকি জেনেও এ সব সিএনজি অটোরিকশায় যেতে হয় তাদের।
 
সিএনজি গাড়ি চালক আ. রহমান ও কদম আলী বলেন, কুস্তা ভাঙ্গার ওপারে (পশ্চিম পাড়ে) প্রায় ৫০/৫২টি সিএনজি গাড়ি আটকে আছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় গাড়ি পারাপার করার কোনো সুযোগ নেই। আর তাই বাধ্য হয়ে এই বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
 
তিতাস গ্যাস (সিএনজি শাখা) মানিকগঞ্জ জোনের ব্যবস্থাপক রতন চন্দ্র দে জানান, গাড়িতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এলপি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারি তরল দাহ্য পদার্থ। সিলিন্ডারে ত্রুটি কিংবা ব্যবহার, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে অসতর্কতায় আগুনের সংস্পর্শে আসামাত্রই তা ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোপূর্বে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সিএনজি অটোরিকশা গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে রান্না ঘরের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এএন