রাজশাহীতে পর্দা নামলো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের

পর্দা নামলো ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৯ এর। নানা আয়োজন শেষে মঙ্গলবার রাতে নগরভবন চত্বরে অনাড়ম্বর সমাপনীতে গণহত্যা ও ২৫ মার্চ বিষয়ক প্রদর্শনী, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ, নৃত্য, সঙ্গীত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রফেসর, বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, লেখক, শিক্ষা ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।

পরিষদের আহ্বায়ক ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন উৎসব আয়োজনের উদ্যোক্তা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান হেনার সন্তান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। আরেক সম্মানিত অতিথি ছিলেন কবি আসাদ মান্নান।  বক্তব্য দেন উৎসব উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক ও সদস্য সচিব কবি আরিফুল হক কুমার।

মেয়র লিটন বলেন, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন হবে। এ উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে ১০ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হলো। আগামীতে আবারো ১০ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উদযাপন করা হবে। আর মুজিববর্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সকল অপশক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভব, মানুষের মন পবিত্র হয়। শুধু উন্নয়ন করলে হবে না, সঙ্গে মানুষের মনকেও পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিলের দারুণ জয়

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে রাজনীতির পরম্পরায় সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তাঁর চার সহচরকে হত্যা করা হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে যদি রাজনীতি না হতো, তাহলে হয়তো তাঁদের শহীদ হতে হতো না। গণহত্যার রাজনীতি এই মানুষগুলোকে বাঁচতে দেয়নি।  

সকল অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বিএনপি এমনটা দল, যারা গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছে। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভুমিকা কী ছিল সেটা সবাই জানেন। দুঃখের বিষয় এদেশে আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করতে দেই। বিএনপি- জামায়াত গণহত্যা নিয়ে রাজনীতি করে। রাজশাহীসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিরোধ-প্রতিহত করতে হবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে সকল অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।

রাজশাহীর উন্নয়নের প্রশংসা করে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন  আরও বলেন, আমি দেশের অনেক অঞ্চল ঘুরেছি। সব শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে রাজশাহীকে। আমি মানুষের কাছে জানতে চেয়েছি এমন পরিচ্ছন্ন শহর কে গড়েছে, সবাই বলেছেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের কথা।

আলোচনা শেষে উৎসব চলাকালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। এরআগে এদিন সকালে গণহত্যা ও ২৫ মার্চ বিষয়ক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব কবি শেখ হাফিজুর রহমান। ১০ দিনের এ উৎসবে রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিকসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য, বাউল গান, লোকসঙ্গীত, লালনগীতি, ভাওয়াইয়া, গীতি নৃত্যনাট্য, গম্ভীরা, বারোসিয়া, আলকাপ, পথনাটক, গীতি আলেখ্য, সংযাত্রাসহ নানা মনোমুগ্ধকর আয়োজন ছিল।

ইত্তেফাক/এমআরএম