মুক্তিযুদ্ধে ফরাসি বন্ধু মালরোঁ স্মরণে তিন দিনের অনুষ্ঠান শুরু

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফরাসি ঔপন্যাসিক আদ্রেঁ মালরোঁর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে গতকাল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকার ফরাসি দূতাবাস, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

 
আঁদ্রে মালরো ঔপন্যাসিক হলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার বড় পরিচয় অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জুগিয়েছেন। তিনি সেসময় বাংলাদেশের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ব্রিগেড গড়ে তোলারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালরোঁর অবদানকে সম্মান জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানালে তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানান। বর্তমান সরকার আঁদ্রে মারলোঁকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করে।
 
গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে মারলোঁর স্মৃতিচারণ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. গুরুপদ চক্রবর্তী, ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা। এসময় মানুষের মুক্তি কামনায় মুক্তির সপক্ষে তৈরি ‘ড্রয়িং ফ্রিলি’ শীর্ষক সংবাদ কার্টুন প্রদর্শনী এবং প্যারিস এ্যাটাকের ভিত্তিতে ‘নভেম্বর ইন প্যারিস’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী ছিল অন্যান্য অনুষ্ঠান। এদিকে মালরোঁর স্মরণে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে আয়োজন করা হয় মালরোঁর রচনা থেকে পাঠ, আলোচনা ও তাঁর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
 
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রামে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের উদ্যোগে আলোচনা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে ফ্রান্সের ডেপুটি হেড অব মিশন ও কালাচারাল কাউন্সিলর জেন পিঁয়েরি পঁনেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন।
 

ইত্তেফাক/এএন