অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে বরেন্দ্র অঞ্চলের পাহানরা

অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর পাহানরা। এক সময় তাদের নিজস্ব জমি থাকলেও এখন বেশির ভাগ পাহানেরই নিজস্ব জমি নেই। জমি হারিয়ে নিজ ভূমে পরবাসীর মতো বসবাস করছেন এরা।

 
বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁর মহাদেবপুর, সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট, পত্নীতলা, নিয়ামতপুর; রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় পাহান সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার লোকের বসবাস। তবে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলায়ও স্বল্প পরিমাণে পাহান সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করছেন। পাহানদের মুণ্ডা বা মুরারি নামেও অভিহিত করা হয়। যুগ যুগ ধরে এরা এ ভূখণ্ডে বসবাস করছে। বলতে গেলে এরাই বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলের জঙ্গল ভরা উঁচু-নিচু জমি আবাদযোগ্য করে তুলেছিল। এরপর বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে পাহানরা আজ ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে।
 
পাহানরা সহজ সরল, অশিক্ষিত ও কাগজপত্র সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ায় এর কোনো প্রতিকার করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে অনেকেই তাদের নিজের জমিতেই দিনমজুর হিসেবে শুরু করেছে নতুন জীবন। পাহানরা মূলত সবাই কৃষি শ্রমিক। পাহান পরিবারে পুরুষ সদস্যদের চেয়ে নারীরাই বেশি কর্মঠ ও পরিশ্রমী। মূলত নারী কৃষি শ্রমিকদের আয়ের ওপর নির্ভর করেই এদের সংসার চলে।
 
কৃষি ভিত্তিক কাজকর্ম কমে গেলে এসব পরিবারের দুঃখের সীমা থাকে না। ওই সময় তাদের অর্ধাহার অনাহারে দিন যাপন করতে হয়। বিশেষ করে আশ্বিন কার্তিক মাসে মাঠে কোনো কাজ থাকে না। ওই সময়টাতে পাহানরা অভাবের সঙ্গে হেরে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে।
 
মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর দত্তপাড়ার পাহান পল্লির বাসিন্দা গোপেশ্বর পাহান, রায়মুনি পাহান, ফগনবালা ও রসমুনী পাহান জানান, এদের সবার বয়স ৭০ বছরের ওপরে। নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থী তাদের বয়স্ক ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেনি। বর্তমানে তারা অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। যুগ যুগ ধরে এ ভূখণ্ডে বসবাস করলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর পাহান সম্প্রদায়ের। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকায় নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ সম্প্র্রদায়ের লোকজন।
 

ইত্তেফাক/এএন