হঠাৎ করেই ঘটনার শুরু। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্টেটের হাসপাতালে সোমবার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে রোগীর সংখ্যা। সবাই শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিষয়টা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরে প্রদেশটিতে। মাত্র ৪ ঘণ্টা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য ১৯০০ ফোন আসে। প্রতি ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড পর পর একটি করে ফোন। সবার সমস্যা এক। এমনকি শ্বাসকষ্টে এ সময় মারা যান দেশটির ৪ জন।
এভাবে মহামারী আকারে শ্বাসকষ্ট ছড়িয়ে পড়ার কারণ 'বজ্রঝড় হাঁপানি'! শুধু বজ্রঝড় এর কারণ নয়। দেশটির অ্যাজমা ফাউন্ডেশন জানায়, এই সমস্যাটিকে বলে 'বজ্রঝড় হাঁপানি'। আর তা নিয়মিত হয় না। কেবল বিশেষ একজাতীয় ঘাসের পরাগায়নের সময় সঠিক (!) তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় ঝড় হলে এ ধরণের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
জানা যায়, সাধারণ অবস্থায় পরাগায়নের সময় ঘাসের রেণুগুলো ভেঙ্গে যায় না। ফলে মানুষের নাকের লোমে অধিকাংশ রেণু আটকে যায়। কিন্তু সঠিক তাপমাত্রা ও সঠিক আর্দ্রতায় পরাগায়নের সময় তীব্র বাতাস প্রবাহিত হলে বাতাসে থাকা পানিগুলোর সাহায্যে ঘাসের রেণুগুলো ভেঙ্গে যায় এবং তা খুব সহজে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে। এ সময় ফুসফুসের স্বাভাবিক ক্রিয়া প্রচণ্ড ভাবে বাধাগ্রস্ত করে এই রেণুগুলো। সঠিক সময় চিকিৎসা না নিলে বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা থাকলে মানুষ এ সময় মারাও যেতে পারে।
তারা আরো জানায়, শুধুমাত্র ঘাস নয়। এ ছাড়াও অন্য কোন গাছ যদি প্রচুর পরিমাণে একটি স্থানে থাকে এবং এই এই ঘাসের মত পরাগায়ন হয়, তাহলে সেখানেও সঠিক (!) সময় ঝড়ের ফলে 'বজ্রঝড় হাঁপানি' বা 'থান্ডারস্ট্রোম অ্যাজমা। হতে পারে। সিএনএন।
ইত্তেফাক/আরএ