বাঘায় চলছে খেজুর গুড়ের উৎসব

রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে খেজুরের গুড় ও রস সংগ্রহের উৎসব। এখানকার প্রধান অর্থকরী  ফসল আমের পরেই খেজুর গুড়ের স্থান। বর্তমান শীত মৌসুমকে ঘিরে প্রায় ১০ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদন শুরু করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
 
এ উপজেলার গুড় রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান দেয়া শুরু হয়েছে। তাই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির কাজে।
 
বাঘায় খেজুর গুড়ের উৎপাদনকে বাণিজ্যিক ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাঘায় খেজুর গুড়ের উৎপাদন এবং সুনাম এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছে। সেই সাথে দারিদ্র্য ঘুচাতেও ব্যাপক সহায়তা করছে।
 
এ অঞ্চলে যে সব ব্যক্তি  খেজুর গাছ লাগায় তাদের আঞ্চলিক ভাষায় গাছি বলা হয়। মৌসুম ভিত্তিক এ পরিবারগুলো খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে ১টি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না কিংবা এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচও করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে খেজুর গাছ। শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। যাদের প্রত্যেকেরই কম-বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার খেজুর বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সড়কপথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ রয়েছে। এর থেকে প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হয়।
 
ইত্তেফাক/এসএস