রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যু-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনরতরা। তারা বলছেন, সুন্দরবন রক্ষা না পেলে বাংলাদেশও রক্ষা পাবে না। তারা বলেন, সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও যুক্তিতে প্রমাণিত হয়েছে রামপাল প্রকল্পটি সুন্দরবনবিনাশী ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এরপরও সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে অনড় রয়েছে। অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই যেকোন মূল্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিহত করা হবে।
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক মহাসমাবেশে জাতীয় কমিটির নেতারা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। সমাবেশে রামপালে প্রকল্প বাতিল এবং সাত দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জাতীয় কমিটি। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে। একই দাবিতে ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে আরো রয়েছেঃ ২৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী দাবি দিবস, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ; আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবাদ দিবস (গ্লোবাল ডে অব প্রোটেস্ট), ১৪ জানুয়ারি দেশবাসীর সামনে জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতের জন্য সুলভ, টেকসই, পরিবেশ ও জনবান্ধব বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, ২৬ জানুয়ারির আগে সারাদেশে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ। এছাড়া আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সুন্দরবন রক্ষার আওয়াজ নিয়ে শহীদদের স্মরণ করার আহবান জানানো হয়েছে।
জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। এটি রক্ষায় এখন আন্দোলনে সাফল্যেরও বিকল্প নেই। জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এ আন্দোলনে সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে। একইসাথে সরকার যত দ্রুত বাস্তবতা ও সত্য উপলব্ধি করে প্রকল্পটি বাতিল করবে দেশের জন্য ততটাই মঙ্গলজনক হবে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদ্যুত্ প্রকল্পের ক্ষতির নানা দিক আমরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও যুক্তি দিয়ে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা তা শুনছেন না। আমরাও যেকোনো মূল্যে এটিকে প্রতিহত করব। তিনি বলেন, এ সরকার শুধু নামেই বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে ভারতপন্থি রয়েছে; চীনপন্থি, রুশপন্থি, আমেরিকাপন্থি রয়েছে; শুধু বাংলাদেশপন্থী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যেকোনো মূল্যে এ প্রকল্পটি প্রতিহত করা হবে। তাই এতে বিনিয়োগ না করার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই, তারাই দেশবিরোধী প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। এ আন্দোলন মৃত্যুর বিরুদ্ধে জীবনের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জীবন জয়ী হবেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব থাকলে সরকার অনেক আগেই প্রকল্পটি বাতিল করতো। কোম্পানিকেন্দ্রিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া সকলেই প্রকল্পটিকে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমতউল্লাহ, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, খালেকুজ্জামান। সমাবেশশেষে একটি মিছিল বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, মত্স্যভবন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
ইত্তেফাক/এএন