ফুটবল বিশ্বের সেই সব শোক গাথা

 
কলম্বিয় পর্বতমালায় ব্রাজিলিয়ান ক্লাব শ্যাপকোয়েন্সের ফুটবলারদের বিমান দুর্ঘটনা শোক স্তব্ধ বিশ্বকে আবারো মনে করিয়ে দিলো অতীতের এমনতর অনেক মর্মান্তিক ঘটনাগুলোকে।
 
এরকম অন্তত গোটা বিশেক দুর্ঘটনার কথা ঘুরে ফিরে আসে ক্রীড়ামোদীদের মনে। সেসব দুর্ঘটনায় ফুটবলার, রাগবি খেলোয়াড়, হকি খেলোয়াড়, বক্সার, ফেন্সিং খেলোয়াড়রা চিরতরে হারিয়ে গেছেন।
 
IMG0
 
তবে ফুটবলারদের ঘিরে ঘটা ট্রাজেডিগুলোর মধ্যে সবার আগে মনে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ‘মিউনিখ এয়ার ডিজাস্টার’। ১৯৫৮ সালের ছয় ফেব্রুয়ারি। অর্ধ-শতাব্দির বেশি সময় কেটে গেলেও মিউনিখের দুঃসহ স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের আজো তাড়িয়ে বেড়ায়। ‘দ্য বাসবি বেবিস’ নামে খ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দল যুগোশ্লাভিয়ার (বর্তমান সার্বিয়া) বেলগ্রেডে খেলতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে জ্বালানি নিতে নামে মিউনিখে। তখনকার পশ্চিম জার্মানির মিউনিখের জলকাদা মিশ্রিত রানওয়েতে তৃতীয় চেষ্টার টেক অফের সময়েই ভেঙে পড়ে ব্রিটিশ ইউরোপীয়ান এয়ারওয়েজের বিমানটি। প্রাণ হারায় ২৩ জন। পরপারে চলে যাওয়া এই দলে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমের ম্যান ইউ’র স্কোয়াডের আট জন ফুটবলার ছিলেন। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামের ফলক এখনো বয়ে চলছে ম্যানচেস্টারের দলটির সেই করুণ স্মৃতি।
 
 
বিমান দুর্ঘটনায় ফুটবলার হারানোর দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়াকে। ১৯৯৩ সালের ২৮ এপ্রিল জাম্বিয়ান জাতীয় দলের ফুটবলাররা ডাকারে উড়ে যাচ্ছিলেন স্বাগতিক সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাছাই ম্যাচ খেলতে। ১৮ জন খেলোয়াড় ও পাঁচজন কর্মকর্তা ছিলেন বিমানটিতে।
 
গ্যাবনের লিব্রেবেলির উপকূল থেকে বিমানটি উড়াল দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আটলান্টিকে ভেঙে পড়ে। ঘটনার তদন্তে জানা গিয়েছিল, একটি অগ্নিকাণ্ডের পর পাইলট ভুলবশত ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে আরেক তদন্তে দেখা যায় বিমানটির পাইলট ছিলেন অবসন্ন এবং একটি যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্র্যাজিক এ ঘটনা নিয়ে ২০১৪ সালে স্প্যানিশ ও জাম্বিয়ান ভাষায় ‘এইটটিম’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে।
 
 
ইতালির ফুটবল ক্লাব তুরিনের সঙ্গেও রয়েছে বিমান দুর্ঘটনার বিয়োগান্ত স্মৃতি। ঘটনাটি ১৯৪৯ সালের ৪ মে ঘটলেও আজও মনে পড়ে অনেকের। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে স্বাগতিক বেনফিকার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে ফিরছিল তুরিনোর খেলোয়াড়রা। বিমানটি একটি দেওয়ালে ধাক্কা মারলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
 
ধারণা করা হয় দৃশ্যমানতার অভাবে তুরিনের অদূরে ‘বেসিলিকা অফ সুপারগা’ নামক গির্জার পেছনে দেয়ালে আছড়ে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনাটি ‘সুপারগা এয়ার ডিজেস্টার’ নামে খ্যাত। এই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় পুরো তুরিন দলের খেলোয়াড় ও তাদের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদেরও। এই দুর্ঘটনা ইতালির জাতীয় দলেও বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। কেননা ক্লাবটির অনেক খেলোয়াড় ইতালি জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
 
ইত্তেফাক/আরএ