ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রা

জাতিসংঘ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল বাংলাদেশের বর্ষবরণের অন্যতম প্রতীক মঙ্গল শোভাযাত্রা। মানব জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এ শোভাযাত্রায় শিক্ষক-ছাত্রসহ শুভতার পক্ষের সব মানুষ প্রতি বছর অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-ছাত্রদের            তত্ত্বাবধানে ১৯৮৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ শোভাযাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শান্তির প্রতীক এ মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ইনট্যানজিয়েবল কালচারারল হেরিটেজ) তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গতকাল ফ্রান্সে বাংলাদেশের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ?্য জানানো হয়।

 
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ?্য রক্ষায় আন্তঃদেশীয় কমিটির একাদশ বৈঠকে ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অফ ইনট?্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউমিনিটি’র তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রতিনিধি দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  জানান, ‘জয় বাংলা। আমরা জিতে গেছি। মঙ্গল শোভাযাত্রা ইনট্যানজিয়েবল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেল।’
 
ইউনেস্কো কমিটি বলেছে, এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের মানুষের সাহস আর অশুভের বিরুদ্ধে গর্বিত লড়াই আর ন?্যায় ও সত?্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খার প্রতীকী রূপ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, বয়স, লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সবার অংশ গ্রহণও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ?্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় ইউনেস্কো কমিটি।
 
এ বৈঠকে বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এরা হলেন ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি মোঃ শহিদুল ইসলাম, ইথিওপিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মোঃ মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন মো: নিসার হোসেন এবং প্যারিসে বাংলাদেশে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফারহানা আহমেদ চৌধুরী।
 
এ প্রসঙ্গে টেলিফোনে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শহিদুল ইসলাম গতরাতে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই ঘোষণা। এটা আমাদের সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অর্জন।
 
এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ বলেন, ২০১৪ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘নমিনেশন প্রোপোজাল’ পাঠানো হয়। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ইনট?্যানজিয়েবল কালচারারল হেরিটেজ বা অপরিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা করে ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি বিষয়ের বিররণ তুলে ধরা হয়। এ অর্জনের মধ?্য দিয়ে বাংলাদেশের অসামপ্রদায়িক ও ঐক?্যবদ্ধ সংস্কৃতি বিশ্বের কাছে নতুনভাবে ধরা পড়বে।
 

ইত্তেফাক/এএন