উদ্ভিদ

সৌন্দর্যময় ক্যাকটাস

 

আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। ক্যাকটাস নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই কারো। ক্যাকটাস নামের উত্পত্তি হয়েছে গ্রীক শব্দ ‘ক্যাকটা’ থেকে। এর বাংলা অর্থ হলো শির দাঁড়াযুক্ত কাঁটাওয়ালা গাছ। ক্যাকটাস গাছের আদি বাসভূমি আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে। এ জাতীয় গাছকে আমেরিকার নিজস্ব উদ্ভিদ বলা হয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, মেক্সিকো, অ্যারিজোনা ও টেক্সাসের বিস্তৃত মরু অঞ্চলে ক্যাকটাসের বন গড়ে উঠেছে।

ক্যাকটাস সাকুলেন্টধর্মী দৃঢ় স্বভাবের গাছ। এ গাছকে মরুভূমির সুন্দরী উদ্ভিদ হিসেবেই শনাক্ত করা হয়। ক্যাকটাসের বসবাস বেশিরভাগ মরু অঞ্চলে। তবে কিছু প্রজাতির ক্যাকটাস তুষারপাত অঞ্চলেও বেঁচে থাকে। ক্যাকটাসে পানি সংকট দূরীকরণ, সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাত্ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মতোই আমাদের জীবনে ক্যাকটাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্যাকটাসে রয়েছে আধুনিক সৃজনশীল বৈচিত্র্য। ক্যাকটাসগাছ পাহাড়ে পাথরের আড়ালে থেকে অনেক সময়ই অতি বৃষ্টির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে। উত্তপ্ত মরুভূমিতে বৃষ্টির সময় সারা রাত যেসব উদ্ভিদ জন্মে, সেগুলো বৃষ্টির অল্প দিনের মধ্যে মারা যায়। কিন্তু এই মরুভূমিতেই ক্যাকটাসের মতো এমন গাছ জন্মে যা কি না বৃষ্টির অভাবে মরে না। কারণ মরুভূমির প্রচুর উত্তপ্ততায় ক্যাকটাসের রয়েছে পানি ধারণক্ষমতা। ফলে ক্যাকটাসগাছ ২০০ বছরের মতো বাঁচতে পারে।

ক্যাকটাসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গুণ। আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা আজ ক্যাকটাসকে সব রোগের ওষুধ হিসেবে অভিহিত করতে চাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা বলেন, ক্যাকটাসের মধ্যে এমন রাসায়নিক গুণ রয়েছে, যা যে কোনো রোগের চিকিত্সার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখনো শত শত প্রজাতির ক্যাকটাস রয়েছে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।

ব্যবসা-বাণিজ্য সৃষ্টি করার মতো ক্ষমতা রয়েছে ক্যাকটাসের। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই ৫০টি দেশ থেকে বছরে আমদানি করে থাকে ৭ মিলিয়নের ওপর ক্যাকটাসগাছ। বিশ্বব্যাপী চলছে ক্যাকটাসের আমদানি-রফতানি। গৃহসজ্জায়, সীমান্ত সজ্জায় কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস ও হুইস্কি তৈরির জন্য ক্যাকটাসের রসালো ফলের রয়েছে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা।