জুরাইনে বেহাল সড়ক, পানি সংকট

পুরান ঢাকার জুরাইন, পোস্তগোলা ও ফরাশগঞ্জ এলাকার কয়েক লাখ বাসিন্দা নানা সংকটে ভুগছেন। পানিতে দুর্গন্ধসহ পানি সংকট, বেহাল রাস্তা-ঘাট, ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, মশা-মাছির যন্ত্রণাসহ আবাসন সংকটে পড়েছেন পুরান ঢাকার কয়েক লাখ মানুষ।

 
বিশেষ করে আবাসন সংকট এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ঘিঞ্জি পরিবেশে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ভবন। ভবন নির্মাণে রাজউকের প্ল্যান কিংবা বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি। এ ব্যাপারে রাজউকের চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগরী বিনির্মাণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিল্ডিং কোড মেনে সকলকে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় ঢাকা ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
 
জুরাইন, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড, মুরাদপুর হাজী লাল মিয়া সরকার রোড, জিরোপয়েন্ট থেকে পাটেরবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ দিন যাবত্ রাস্তাটির বেহাল। রাস্তাটি মেরামত ও সংস্কার না করায় যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি অর্ধ নির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে। কাদা জমে চরম বেহাল রাস্তাটির। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে পানি। তাছাড়া নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টি আর স্যুয়ারেজের পানি মিলে প্রায়ই এলাকা একাকার হয়ে যায়। রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা খোয়া গেছে। অনেক স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে গেছে। নতুন করে ঢাকনা বসানোর কাজ গত এক বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা ম্যানহোলগুলো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
 
এছাড়া এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ লক্ষ্য করা গেছে। জুরাইন, পোস্তগোলা ও শ্যামপুরে কোনো ডাস্টবিন নেই। পুরো এলাকার ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
 
পুরান ঢাকায় গত কয়েক মাস যাবত্ মশা ও মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে মশার ওষুধ স্প্রে না করায় এই উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
 
জুরাইনের বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, দিনে মশা রাতে মাছি এই নিয়ে ঢাকায় আছি। নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে ডিসিসির কর্মকর্তারা মোটেও নজর দিচ্ছে না। ফলে এলাকায় জীবাণুবাহিত নানা রোগ-বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
এদিকে জুরাইন, পোস্তগোলা, শ্যামপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়েছে। ফলে অনেক অভিভাবকই তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- একটি বিশেষ মহল তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকাসক্ত করে তাদের বিপথগামী করে তুলছে।
 
মোর্শেদ আলম নামের একজন অভিভাবক বলেন, তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তিনি মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন। তার ছেলে বন্ধু-বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে  পরিবারের সবার অজান্তে গত তিন মাস ধরে মাদক সেবন করছেন। তিনি ছেলেকে মাদকাসক্তমুক্ত করতে মিরপুরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাসিম মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, ৫১, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরম বেহাল রাস্তা-ঘাট। রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প সিটি করপোরেশনে জমা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, অন্য সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে নিরসনের চেষ্টা চলছে।
 
এদিকে পুরান ঢাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছুদিন যাবত্ এই দুরবস্থা চলছে। গন্ধযুক্ত পানি একেবারেই মুখে তোলা যাচ্ছে না। এছাড়া পানি সংকট তো লেগেই আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা ।
 
দিন যত যাচ্ছে পানিতে দুর্গন্ধ ও পানি সংকট ততই বাড়ছে। বাইরে থেকে পানি কিনে  কাজ চালাচ্ছেন বলে জানান মাসুদ রানা নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি একাধিকবার ঢাকা ওয়াসার স্থানীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে সংগৃহীত পানি শোধন করতে কিছুটা বেশি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এতে করে পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। তবে ফুটিয়ে পান করলে এই পানি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে তিনি জানান।
 

ইত্তেফাক/এএন