ইংলিশ কন্ডিশন নিয়ে ভাবনায় মিঠুন

স্পোর্টস রিপোর্টার

নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের প্রবল ব্যাটিং হতাশার মধ্যেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা দুই ফিফটি করেছিলেন। এরপর ইনজুরি একটু দমিয়ে দিয়েছিল মোহাম্মদ মিঠুনকে।

ইনজুরির ভয়েই মোহামেডানের বিপক্ষে ঢাকা লিগে সর্বশেষ ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি আবাহনীর এই ব্যাটসম্যানের। তবে এই সবকিছুকে পেছনে ফেলে এখন বিশ্বকাপের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করে তোলার অপেক্ষায় আছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মিঠুন। বলছিলেন, ইংলিশ কন্ডিশন মাথায় রেখেই অনুশীলন শুরু করবেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৬২ ও ৫৭ রান করেছিলেন। দুই টেস্টের প্রথম তিন ইনিংসে ভালো করতে না পারলেও শেষ ইনিংসে ৪৭ রান করেছিলেন। এর মাঝেই আঘাত হেনেছিল হ্যামাস্ট্রিংয়ের চোট। সেই কারণে তৃৃৃতীয় ওয়ানডে খেলতে পারেননি। তার ফর্মই নিশ্চয়তা দিচ্ছে, বিশ্বকাপ দলে থাকা নিয়ে তার খুব একটা সংশয় নেই।

ঢাকা লিগে শেষ ম্যাচটায় বিশ্রামে ছিলেন। আবার পরের ম্যাচেই হয়তো মাঠে ফিরবেন। মিঠুন বলছিলেন, লিগ খেলার পাশাপাশি বিশ্বকাপের জন্য বিশেষ প্রস্তুতিও শুরু করবেন তিনি, ‘আপাতত ঢাকা লিগেই মনোযোগ। (বিশ্বকাপের জন্য) আলাদাভাবে প্রস্তুতি এখনো শুরু করি নাই। তবে করবো। প্রিমিয়ার লিগ খেলে আমি যদি চিন্তা করি যে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে, সেটা ভুল। কারণ ওখানকার কন্ডিশন পুরো আলাদা। প্রিমিয়ার লিগ খেলার পাশাপাশি ওই কন্ডিশন মাথায় রেখে প্রস্তুতিটা জরুরি।’

এর মধ্যে মিঠুনের জন্য একটা বড় আত্মবিশ্বাসের কারণ হতে পারে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভালো খেলা। কিন্তু মিঠুন নিজে তার এই পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলছিলেন, আরো বড় ইনিংস খেলা উচিত ছিল, ‘ওইখানে ভালো খেলা আমার দায়িত্ব ছিল। পুরোপুরি পালন করতে পারি নাই। দুইটা ইনিংসই আরো বড় করা যেতো। ওই ইনিংস আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন এনেছে কিনা জানি না। প্রতিটি ম্যাচেই আসলে আমি চেষ্টা করি।’

তবে এই সঙ্গে এটাও মিঠুন স্বীকার করছেন যে, নিউজিল্যান্ডে খেলাটা ছিল খুবই কঠিন। বিশেষ করে ওই কন্ডিশনে অত দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে বলছিলেন, ‘অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল। যেহেতু বিপিএল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গিয়েছি। মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ আরো বেশি। কারণ একটা বলের ব্যাপার। যতক্ষণ উইকেটে থাকতে হয়, চ্যালেঞ্জ নিয়েই থাকতে হয়।’

জাতীয় দলে খুব বেশি দিন আসেননি। মাত্র ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ে ৪টি ফিফটি করেছেন। তবে মিঠুনের আফসোস আছে, এর মধ্যে একটি দুটি ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারায়, ‘কোনো ব্যাটসম্যানই ডাবল ফিগারে থাকতে চায় না, সবাই চায় থ্রি ফিগার। একটা ইনিংস ৫০-এ শেষ হয়ে গেলে যথেষ্ট নয়। তিন ডিজিটে নিয়ে যেতে পারলে দলের লাভ, আমারও লাভ। কিন্তু সব সময় হয় না। কিন্তু সামনে চেষ্টা করবো।’

আপাতত নিজের ইনিংস বড় করার জন্য কাজ করছেন। সেই সঙ্গে কাজ করছেন ফিটনেস নিয়ে। নিজেকে ফিট রাখার প্রয়োজনীয়তাটা খুব ভালো বুঝছেন মিঠুন, ‘ফিট না থাকলে কিছুই করা যাবে না। ফিট না হলে মাঠেই নামতে পারবেন না। একজন খেলোয়াড়ের কাছে এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিট থাকলে যে কোনো সময় ফর্মে ব্যাক করা যায়। সবাই পেশাদার। যার যার কাজ সে সে ভালো বোঝে। আমি ফিটনেস খুব গুরুত্ব দেই পার্সোনালি।’