বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন রেলপথে শুক্রবার ভোরে রাজশাহী আসেন। ভোর ৫ টায় তিনি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান। ওই রাতেই স্টেশনে ফুটে ওঠে হাজার হাজার ফুল। এর আগে স্টেশনে ফুল তো দূরের কথা, ফুলের গাছও ছিল না।
রেলওয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাপরিচালকের আগমনের খবরে তাকে খুশি করতে তৎপর হয়ে ওঠেন পশ্চিম রেলের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সারারাত স্টেশনের বাইরে পার্কিং জোনে লাগানো হয় ফুল গাছ। গাছগুলোতে আগে থেকেই ফুটে ছিল ফুল। শুক্রবার ভোরে স্টেশনে নেমে এসব ফুল গাছ চোখে পড়ে মহাপরিচালকের। রাতে লাগানোর পর গাছগুলোতে পানি দেয়া হলেও শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া থেকে আনা এসব ফুল গাছের প্রায় সবই নেতিয়ে পড়েছে।
এদিকে ফুল গাছ সংরক্ষণের জন্য স্টেশন ভবনের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে ফেনসিং গ্রিল।
IMG0
জামাল হোসেন (৩৫) নামে এক যাত্রী বলেন, ফেনসিং গ্রিলগুলোর বল্লমের মতো ওপরের অংশে কেউ পড়লে তার মৃত্যু নিশ্চিত। আর ফুল গাছগুলো কতো দিন টিকবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। অথচ আগে থেকে পরিকল্পনা করে এসব কাজ করা হলে রেলওয়ে স্টেশনের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এগুলো দারুণ ভূমিকা রাখতে পারতো।
এদিকে মহাপরিচালকের আগমনে স্টেশনে শুধু ফুলই ফোটেনি, চকচকে হয়ে উঠেছে প্লাটফরম, ভবন, পার্কিং জোন সবই। রেলওয়ের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, মহাপরিচালক আসার দুদিন আগে থেকে স্টেশন ভবনের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো পোস্টার উঠিয়ে রং করার কাজ শুরু করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেও এসব কাজ করা হয়েছে।
IMG1
এ সব কাজ কোনো ঠিকাদার করেছেন কিনা জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার ময়েন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এটা পশ্চিম রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ থেকে করা হয়েছে। তবে শুনেছি একজন ঠিকাদারকে কাজগুলো দেয়া হয়েছিল।’
মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন শুক্রবার ভোরে স্টেশনে নেমে রেলওয়ের নিজস্ব রেস্ট হাউসে বিশ্রাম নেন। সকাল ৯টার দিকে তিনি চাঁপাইনাবাবগঞ্জ যান। বিকেলে রাজশাহী ফিরে ফের রেস্ট হাউসে যান। শনিবার ভোরের সিল্কসিটি ট্রেনে পাবনার উদ্দেশ্যে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি