জেসুসে জয় ব্রাজিলের

ব্রাজিল- ৩ :চেক প্রজাতন্ত্র- ১

 স্পোর্টস ডেস্ক

বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল জেসুসের জোড়া গোলে ব্রাজিল ৩-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও জয়টি সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি। এমনকি জেসুস নিজেও জয় পেতে দুর্দশার জন্য কোচ তিতের খেলোয়াড় বদলানোকে দায়ী করেন।

ব্রাজিলকে গত মঙ্গলবার রাতের এই প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের জন্য জেসুসের ৮৩ ও ৯০ মিনিটের গোল দুটির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। জুনে নিজেদের মাঠে কোপা আমেরিকা শুরুর আগে এটাই ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।

অবশ্য জেসুস গোল পেলেও শেষদিকে ব্রাজিলের জ্বলে ওঠার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে আয়াক্স উইঙ্গার নেরেসকেও। উভয় গোলেই ছিল তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান। ৭৭ মিনিটে তিনি দেশের হয়ে প্রথম গোল থেকে বঞ্চিত হলেও সতীর্থদের বল জোগাতে কার্পণ্য করেননি।

কোচ তিতে পানামার সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে খেলা একাদশে ছয়টি পরিবর্তন এনে চেক প্রজাতন্ত্রের মাঠে দল নামান। গত শনিবারের ওই খেলাটির দলে থাকাদের মধ্যে কেবল ক্যাসেমিরো, লুকাস প্যাকোয়েতা, ফিলিপ কোটিনহো, রিচারলিসন ও রবার্তো ফিরমিনহোকে মাঠে নামান তিতে।

পানামার বিরুদ্ধে অমন দুর্দশার পরও সেলেচাও কোচ প্রাগে খেলাটির প্রাক্কালে বলেছিলেন আক্রমণভাগে তিনি ধারাবাহিকতা চান। কিন্তু বিরতি সময়ে এক গোলে পিছিয়ে থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ থেকে প্যাকোয়েতাকে বসিয়ে দেন তিতে। জেসুসের গোলের আগে ৪৯তম মিনিটে সুযোগ সন্ধানী গোলে ফিরমিনহো দলকে সমতায় ফেরান। এরপর গোল দুটি করেন ৭২তম মিনিটে মাঠে আসা  জেসুস। জয়ের পর ম্যানচেষ্টার সিটির এই খেলোয়াড় বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা একটা ভালো ম্যাচ খেলেছি। যখন অনেকগুলো পরিবর্তন হয়, সে সময় জয় পাওয়া সহজ নয়। আমরা কিছুটা সংহতির ঘাটতিতে ছিলাম। কিন্তু আমরা হলাম ব্রাজিল এবং আমাদের এ ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে হয়।’

নিজ দেশের টিভি গ্লোবোকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। আমরা খুশি ছিলাম এবং আমরা জয়টি পাই। মাঝে মাঝে বিপক্ষ ভালোভাবেই নিজেদের রক্ষা করছিল। পানামার বিরুদ্ধে সেটাই ছিল ঘটনা। আমরা আরও সুযোগ তৈরি ও আক্রমণ করতে পারতাম। তবে আমি ইংল্যান্ডের পাঁচজনের রক্ষণদেয়ালের বিরুদ্ধে খেলে অভ্যস্ত। পানামা দ্বিতীয়ার্ধে ছয়জনকে জড়ো করেছিল। এটা ছিল কঠিন এবং আমরা এতে অভ্যস্ত নই। তবে এরপর আমরা এটা নিয়ে কাজ করি।’

অপরদিকে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধ ছিল কঠিন এবং নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পরিবর্তন আনি এবং খেলোয়াড়রা আরও বেশি পাস দিতে সক্ষম হয়। জেসুসের মধ্যে আমি খেলাটিতে অংশ নেওয়া, গোল করা এবং সুযোগ বানানো ও সেগুলোকে পূর্ণতা দেওয়ার ব্যাপারে অনেক দৃঢ়তা দেখতে পেয়েছিলাম।’

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পথে থাকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে ছাড়াই খেলে। কিন্তু তিতে নেইমারহীন পরিস্থিতিতে আক্রমণভাগে ধার বাড়ানোর ব্যাপারে এখনো কোনো সূত্র বের করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে দামি ফুটবলারটি কোপা আমেরিকায় খেলবেন। স্বাগতিক ব্রাজিল বলিভিয়ার বিরুদ্ধে খেলার মধ্য দিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের অভিযানে নামবে।