অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল

’৪৭ পরবর্তী আধুনিক সাহিত্য নিয়ে গবেষণার আহ্বান

 
দেশের গবেষণা ও প্রবন্ধসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৩’ পেয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। পুরস্কার প্রদানকালে তাকে ’৪৭ পরবর্তী আধুনিক সাহিত্যের মূলধারার গবেষণার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। উক্ত সময়ের বাংলা সাহিত্যে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ নিয়ে সেভাবে গবেষণা নেই, যা সাহিত্যের জন্য প্রয়োজন। অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল তার গবেষণা ও প্রবন্ধ শৈলীকে কাজে লাগিয়ে কাজটি করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। 
 
শনিবার  জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও কবি আসাদ চৌধুরী। সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।
 
ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক বেগম আকতার কামালের লেখায় চিন্তার খোরাক আছে, আছে নিজস্ব রীতি। ‘বিষ্ণু দে-র কবিমানস ও কাব্য’ শীর্ষক গবেষণার মতো কঠিন কাজ তিনি করেছেন। তিনি গবেষণার পরিমাণ ও গুণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি তার মন্তব্যে বলেন, পাক্ষিক ‘অনন্যা’ পুরস্কার দিচ্ছে সাহিত্যের জন্য এবং তা যোগ্য সাহিত্য লেখককে দিচ্ছে বলে পুরস্কারটি অনন্য। তিনি বলেন, এই পুরস্কার শুধু এই সাহিত্যিককেই না বরং সাহিত্য চর্চাকেও উত্সাহিত করবে।
 
কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল ‘কবির সাহিত্য’ লিখে বলেছেন, এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হবে। তারপরও তিনি নিজের অনুধাবনকে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের নবায়ন হবে সাহিত্যর্চচার মধ্যদিয়ে। তিনি অধ্যাপক বেগম আকতার কামালকে দেশের ভাষা আন্দোলন, সামরিক শাসন, স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে আধুনিক সাহিত্য রচনার আহ্বান জানান।
 
কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, বেগম, ললনার পর দেশের আধুনিক নারীর মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য ‘অনন্যা’র আবির্ভাব ঘটে। ‘অনন্যা শীর্ষদশ’ ও ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদানের মধ্য দিয়ে নারীর অগ্রগতি ও সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে, যা প্রশংসার দাবিদার।
 
অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল বলেন, নারী পরিচালিত অনন্যা থেকে তার গবেষণা ও লেখালেখি জীবনের প্রথম পুরস্কার পেয়ে তিনি আনন্দিত। জীবনের সামগ্রিক দিক দিয়ে তিনি সাহিত্য আলোচনাকে দেখেন। তিনি মনে করেন, লেখা শেষ হলে তা আর লেখকের থাকে না, সেটা পাঠকের হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তা পাঠকের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অতীতকে জানানোর বিষয় নিয়ে সাহিত্য আমাদের মূলধারায় উপেক্ষিত।
 
তাসমিমা হোসেন বলেন, প্রতিবছর অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দিলেও এবছর অধ্যাপক বেগম আকতার কামালের পুরস্কার প্রাপ্তি একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তার বইগুলো অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে পাঠককে সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইংরেজি তরজমা করে বিশ্বসাহিত্য দরবারে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
 
উল্লেখ্য, পুরস্কার হিসেবে তাকে একটি সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
 
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্য ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য একটি নাম। তার প্রবন্ধে নিজস্ব একটা সৃজনী আছে, যে কারণে সমসাময়িক প্রাবন্ধিকদের মধ্যে সহজেই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। তিনি কবিতা নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বশীল কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমানে বিভাগীয় প্রধান ও কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।