শিশু সাহিত্যিক রহীম শাহকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেছেন তার স্ত্রী খুরশীদ জাহান। গত ১২ অক্টোবর ২০১৬ আকস্মিকভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছেন। এখন তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পরামর্শ দিয়েছেন। উন্নতর চিকিৎসা না করালে হয়তো চিরতরে তিনি পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।
রহীম শাহ বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক। দীর্ঘ চার দশক ধরে সাহিত্যের সব শাখায় কাজ করে অবিরাম উজ্জ্বলতম করে তুলেছেন শিশু সাহিত্যকে। পেয়েছেন পাঠকপ্রিয়তাও। কবিতা-ছড়ার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, জীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী, বিজ্ঞান, অনুবাদ সহ শিশুসাহিত্যের প্রতিটি শাখায় আছে তার নিপুণ হাতের স্বাক্ষর। ইতোমধ্যে প্রকাশিত বিজ্ঞান বিষয়ক তার সবগুলো বই পাঠক সমাদৃত হয়েছে। পাখি, বন্য জীবজন্তু, গাছপালা তার লেখার প্রধান উপজীব্য। শতাধিক জনপ্রিয় গ্রন্থও প্রণয়ন করেছেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে তার হাতে সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ : ২৫ বছর’, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে দালিলিক সংকলন ‘পঁচাত্তরের সেইদিন’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ১০১ কিশোর রচনা’ উল্লেখযোগ্য কাজ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত তার একক গ্রন্থ ‘বীর মানুষের ছড়া’। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রদত্ত অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান স্বর্ণপদক, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ্যবই ‘আমার বই’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার কবিতা ‘ছুটি’।
রহীম শাহ’র স্ত্রী খুরশীদ জাহান জানান, তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি গৃহবধূ। দুইপুত্র এখনও অধ্যয়নরত। অন্যকোনো দেশে চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক অবস্থা আমাদের নেই। তার কোন সহায়-সম্পদও নেই, যা বিক্রি করে তার চিকিৎসা করাতে পারি। তাকে সুস্থভাবে বাঁচাতে হলে ভারত কিংবা অন্যকোনো দেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হবে বিধায় আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/আরএ