কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি বড় জলাশয় লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটা (নাপিতাপুকুর) দিঘি সংস্কার করে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারের আধুনিকায়নের উদ্যোগ হিসেবে পুকুরগুলোকে পর্যটনবান্ধব করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। এটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ।
প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্যে কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরদের নিয়ে গত ১২ মার্চ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় ও পর্যটকরা কি কি সুবিধা পেতে পারেন তা চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন কর্তৃপক্ষ।
কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়তে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী উদ্যোগ নিয়েছে কউক। ইতোমধ্যে সৈকত এলাকা ও পুরো শহর যানজটমুক্ত করতে বিকল্প সড়কসহ নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমাঝে সৈকতের লাবণী রাস্তার মাথায় রূপচাঁদা ঝর্ণা, শরণার্থী ত্রাণভবন মোড়ে সাম্পান ঝর্ণা ও বিমানবন্দর রাস্তার মাথায় তারামাছ ও শামুক ঝর্ণার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। অত্যাধুনিক বাতি লাগিয়ে রাতের বেলা আলোকিত করা হয়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এসবের সঙ্গেই যোগ হয়েছে শহরের ঐতিহ্য তিনটি পুষ্করিণী দৃষ্টিনন্দন করার প্রকল্প।
কউক সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটার নাপিতা পুকুর পুনঃখননসহ ভৌত সুযোগ-সুবিধায় উন্নয়ন ঘটিয়ে আধুনিকায়ন করা হবে। প্রকল্পে রয়েছে—সবুজ বেস্টনী, সাইকেল স্ট্যান্ড, পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিদ্যুতায়ন, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ৩৬ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প তিনটির কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জুনের দিকে প্রকল্প তিনটির কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর পরিচালক ও কউক সদস্য লে. কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ার উল ইসলাম বলেন, দিঘি তিনটির আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দিঘি তিনটির আধুনিকায়নের স্বার্থে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেই কাজ শুরু করা হবে। সৌন্দর্যবর্ধন রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তাই শহরের উন্নয়নে সবাই সহযোগিতা করবেন বলে আশা করেন তিনি।
কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে সাজাতে তিন বছর পার করছি। প্রথম বছর পুরো জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো শনাক্ত করেছি। ২য় বছরে এগুলোর প্রকল্প তৈরি ও একনেকে অনুমোদনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এবং কিছু কিছু প্রকল্প পাসও হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে আসার পর অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলমান প্রকল্পের মাঝে রয়েছে কউকের বহুতল ভবন। আর তিন পুষ্করিণী আধুনিকায়ন।
চলমান কাজগুলো যথাসময়ে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাস্তার প্রস্থ বাড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজও চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কউক চেয়ারম্যান।