সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মামলা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না দুই সহোদরের চাঁদাবাজি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এরা হলেন, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের হাবিব সারোয়ার আজাদ ও তার ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন শাহ।
সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার বারকি-বালি-পাথর শ্রমিকরাসহ ব্যবসায়ীরা ওই দুই সহোদরের চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সিলেট বিভাগীয় পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাবিব সারোয়ার আজাদ ও সাজ্জাদ হোসেন শাহ দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক ভোরের কাগজসহ আরো একাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশসহ সাংবাদিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদীর বারকি-বালি-পাথর শ্রমিকসহ ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে চাঁদাবাজি করছে। তাদের কথা মতো চাঁদার টাকা না দিলে নিরীহ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের পাথর ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের এক লক্ষ টাকা চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাবিব সারোয়ার আজাদ ও সাজ্জাদ হোসেন শাহের বিরুদ্ধে ১৭ নভেম্বর চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আরো চারটি চাঁদাবাজি মামলাসহ সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর থানায় একাধিক জিডি রয়েছে।
বাদাঘাট ন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুলের প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ‘৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় হাবিব সারোয়ার আজাদ ও তার বাহিনী নিয়ে আমার স্কুল ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।’
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়ার অভিযোগ, ‘আজাদ ও সাজ্জাদের অত্যাচারে সাংবাদিক সমাজসহ এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হাবিব সারোয়ার আজাদ ও সাজ্জাদ হোসেন শাহর চাঁদাবাজি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সিলেট বিভাগীয় সহকারী পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ