তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বিষয়ে সংশয়পূর্ণ খবর প্রচারিত হওয়ার পরে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে সোমবার জনপ্রিয় এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবর স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।
কিন্তু হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই খবর ভিত্তিহীন বলে প্রেস রিলিজ দেয়ার পরে খবরটি প্রত্যাহার করে নেয় গণমাধ্যম। জয়ললিতার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার পর হাজারো মানুষ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে হাসপাতালে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। হাজারো আবেগাক্রান্ত ভক্ত কান্না ও আহাজারিতে ভারি করে তোলে হাসপাতালের চারপাশের এলাকা। শুধু তাই নয়, জয়ার দলের সদর দফতরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অর্ধনমিত রাখা হয়।
তামিলনাড়ুতে ছয়বার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া জয়ললিতাকে দেবীর মতো শ্রদ্ধা করে মানুষ। তার চিকিৎসকরা বলেছেন, তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। গত ২২ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জয়ললিতা, পরে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায় হাজারো মানুষ হাসপাতালের সামনে জয়ললিতার জন্য প্রার্থনা করছে। একজন সমর্থক বলেন, আম্মার (জয়ললিতা) অবশ্যই বেঁচে থাকা উচিত। এর বদলে যদি আমার জীবনও চলে যায় তাতে কিছু যায় আসে না।
পুরো তামিলনাড়ুতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে, শুধুমাত্র হাসপাতালজুড়ে ১ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজ্যের মার্কিন কনস্যুলেট সব সেবা বন্ধ করেছে এবং নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
মাত্র ৩ রূপিতে খাবারের জন্য ‘আম্মা ক্যান্টিন’সহ জনগণের সহায়তায় বিভিন্ন জনপ্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেবী হিসেবে পূজনীয় জয়ললিতা। তার অতি আবেগাক্রান্ত সমর্থতকরা তার জন্য বিভিন্ন সময় উদ্ভট কাণ্ড করেছে। ২০১৪ সালে তাকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে নেয়ার খবরে আত্মহত্যার খবরও আসে।
জয়ললিতা কোনো উত্তরসূরি নেই, তার অসুস্থতার সময়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক তার ছবি রেখে পরিচালনা করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস।
ইত্তেফাক/এসএসএ