একসঙ্গে জয়নুল কামরুল সুলতান ও সফিউদ্দিন

শিল্পরসিকদের জন্য আকর্ষণীয় আয়োজন। আর যারা চারুকলার শিক্ষার্থী তাদের কাছে তো হাতে চাঁদ পাওয়ার মত ঘটনা। জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার চার মাস্টার পেইন্টারের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। যার হাত দিয়ে আধুনিক চিত্রকলার জগতে বাংলাদেশের পরিচয় ঘটে সেই জয়নুল আবেদিন, গ্রাম-বাংলার মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও ভালোবাসা ফুটে ওঠে যার ছবিতে সেই এসএম সুলতান, লৌকিক ধারার সঙ্গে আধুনিকতার সংমিশ্রণে শিল্পের চর্চার পথে সমাজ সংস্কারে ব্রতী পটুয়া কামরুল হাসান ও আধুনিক চিত্রকলার অনবদ্য শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ। এই চার মাস্টার পেইন্টারের চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে।

 
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী এসএম সুলতান ও শিল্পী সফিউদ্দিন এই চার দিকপাল যারা মাস্টার পেইন্টার হিসেবে পরিচিত তাদের ৮৯ টি শিল্পকর্ম নিয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। এতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩২টি, পটুয়া কামরুল হাসানের ৩২টি, শিল্পী এসএম সুলতানের ১১টি এবং শিল্পী শফিউদ্দিনের ১৪টিসহ মোট ৮৯টি শিল্পকর্ম নিয়ে সাজানো হয়েছে।
 
গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে ১৭তম দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর। এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
 
শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কয়টি বিষয়ে বাংলাদেশ উত্কর্ষ সাধন করেছে তার মধ্যে এই চিত্রকর্ম অন্যতম। এর জন্য যে ক’জন গুণী মানুষের অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী এসএম সুলতান, শিল্পী শফিউদ্দিন অন্যতম।
 
শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বে চেনে তার চিত্রকলা এবং গার্মেন্টস শিল্পের জন্য। এটা একদিনে হয়নি। আর যে চারজন শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী তাদের জন্ম না হলে আমার মতো শিল্পীরও জন্ম হতো না। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু। তিনি না থাকলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি সেটা সম্ভব হতো না। আমি ভাগ্যবান যে এই মহান ব্যক্তিত্বদের সাহচর্য পেয়েছিলাম।
 
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, শিল্পকর্ম সংগ্রহ ও প্রদর্শনীর আয়োজন জাতীয় জাদুঘরে ধারাবাহিক কাজ হলেও চারজন প্রয়াত মাস্টার পেইন্টারের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও একসাথে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি তাত্পর্যপূর্ণ।
 
পক্ষকালব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীটি ২১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টা  থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা এবং শুক্রবার বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

ইত্তেফাক/এএন