সাত বছর ধরেই উপজেলার চরকাছিয়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে ৪ শতাধিক একর ফসলি জমি, ৩ শতাধিক ঘর, মসজিদ, দোকান ও ভিটা হারিয়ে এখন কয়েকশ’ মানুষ নিঃস্ব। ভূমিহীন হয়েছে প্রায় ৪শ’ পরিবার। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে নদীর দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলি জমি।
চরকাছিয়া গ্রামের বৃদ্ধ দুলু মিয়া বলেন, মেঘনা নদী আমাগোর সব ভাইঙা লইয়্যা গেছে। অহন খালি জানডা আছে। ভাঙনের চিন্তায় রাইতে ঘুম অয় না।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে মেঘনার ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে চরকাছিয়া গ্রাম তলিয়ে যাবে। অব্যাহত ভাঙনের কারণে এক মাসে ২০-২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একাধিবার কথা বলেছি। কোনো লাভই হচ্ছে না। শুধু আশ্বাসের মাঝেই আছে জনগণ।
পাউবোর লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ইয়ার আলী বলেন, ভাঙন রোধে গত বছর পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে জরুরিভাবে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন না করায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অনুমোদন পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ মে পানি সম্পদমন্ত্রী রায়পুরে মেঘনা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত পথসভায় ভাঙন প্রতিরোধে ওই বছরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। দু’বছরেও মন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়নি। বরং দুই বছরে রায়পুর উপজেলার চরকাছিয়া গ্রামে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বাগান বিলীন হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন