প্রতারণার শিকার ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোগী

বেগমগঞ্জের যত্রতত্র প্যাথলজি ক্লিনিক

চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

চৌমুহনী শহরসহ যত্রতত্র প্যাথলজি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এক শ্রেণির অসাধু ডাক্তারদের সঙ্গে চুক্তি থাকায় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে প্যাথলজি টেস্ট দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রোগীরা একদিকে প্রতারিত হচ্ছে, অপরদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে ক্লিনিকগুলোর বর্জ্য ধ্বংস করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নালা ডোবা, খাল এমনকি রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলার ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে ও নানা রোগ-ব্যাধি ছড়াচ্ছে।

বেগমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে উপজেলার চৌমুহনী শহর, জমিদারহাট, একলাশপুর, রাজগঞ্জ, ছয়ানি, কাজীর হাট, চন্দ্রগঞ্জসহ গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে প্যাথলজি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। কোনোরকম নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, টেকনিশিয়ান ও ডাক্তার ছাড়াই চলছে অধিকাংশ প্যাথলজি ক্লিনিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজনই ডাক্তার, টেকনিশিয়ান, রিপোর্ট প্রস্তুতকারীর স্বাক্ষর দিয়ে থাকে। যেহেতু কতিপয় ডাক্তারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, সেহেতু ঐসব ডাক্তার নির্দিষ্ট ক্লিনিকের প্যাথলজি স্লিপ প্যাডে টিক মার্ক দিয়ে নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পাঠায়। এমনকি গ্রাম্য ডাক্তারগণও এ ব্যবস্থা অবলম্বন করছে বলে জানা যায়। শহরে অবস্থানরত ও জমিদারহাটসহ কয়েকস্থানে কিছুসংখ্যক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সাইন বোর্ড টাঙানো থাকে। এইসব সাইন বোর্ডে ডাক্তারদের কার যোগ্যতা কি তা দেখারও লোক নেই। প্রায় সকলের নামের সঙ্গে বিশেযজ্ঞ লেখা থাকে। এর থেকেই প্যাথলজি ক্লিনিকের মোটা দাগের টেস্ট স্লিপ এসে থাকে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, একটি প্যাথলজি ক্লিনিকের অনুমোদন নিতে হলে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট (যার যোগ্যতা ডিসিপি/এমফিল/ এফসিপিএস/এমডি হতে হবে), বিএসসি ইন মাইক্রোবায়োলজিস্ট যোগ্যতার বায়োকেমিস্ট থাকতে হবে। এক্স-রে বিভাগে ডিল্পোমাধারী, এক্স-রে রিপোর্ট করতে বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে ক্লিনিকের বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য বিন ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিজস্ব বিন ব্যবস্থা না থাকলে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বর্জ্য ধ্বংস করতে হবে। আল্ট্রা সনোগ্রাফির জন্য প্রয়োজনীয় ডিগ্রিধারী হতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসবের তোয়াক্কা না করে গ্রামেগঞ্জ, হাট-বাজারে প্রয়োজনীয় লোকবল যন্ত্রপাতি এবং এব সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া প্যাথলজি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। একই ব্যক্তি রিপোর্টে ডাক্তার, টেকনিশিয়ান, প্রস্তুতকারক সকলের স্বাক্ষর দিয়ে থাকে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, যেভাবে প্যাথলজি ক্লিনিকগুলো চলছে তা কারো কাম্য নয়। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ৪৭টি প্যাথলজি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা রয়েছে। এর বাইরেও অনেক ক্লিনিক রয়েছে। অধিকাংশেরই লোকবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব। বিশেষ করে বর্জ্য ধ্বংস করার কোনো ব্যবস্থা নেই। জেলা সিভিল সার্জন ব্যাপারটি নিয়ে তদারকি করে থাকেন।

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিধান চন্দ্র সেনগুপ্ত জানান, প্যাথলজি ক্লিনিকগুলো যেভাবে অনিয়মের মধ্যে চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। অচিরেই অভিযান পরিচালনা করে সরকারি নিয়ম বহির্ভূত ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।