রাজশাহীতে জেঁকে বসছে শীত: নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ

রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দুদিন ধরে হাড় কাঁপুনি শীত নেমেছে রাজশাহীতে। কমেছে তাপমাত্রাও। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
 
হঠাৎ জেঁকে বসা তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের অনেকটা দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তারা ঠাণ্ডা তাড়াতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে একটু প্রশান্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন।
 
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ ভাগ। অনেকটা কুয়াশায় ঢাকা ছিল রাজশাহীর চারিদিক। সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা ছিল চারদিক। আকাশে তখনো দেখা মেলেনি সূর্যের। এতে করে হিমেল বাতাসে ঠাণ্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
 
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘গত সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আজ মঙ্গলবার আবহাওয়ার যে গতিবিধি তাতে সর্বোচ্চ তামাত্রা ২৫ ডিগ্রি ছাড়াবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।
 
লতিফা হেলেন আরো বলেন, ‘গত রবিবার রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন তেমন কুয়াশা এবং বাতাসও ছিল না। কুয়াশা এবং বাতাস বাড়তে থাকে সোমবার পর্যন্ত। আগামী কয়েকদিনে কুয়াশা ঘন কুয়াশায় রূপ লাভ করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে।’
 
এদিকে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশা প্রবাহে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষরা শীতে অনেকটা কাতর হয়ে পড়েছেন। শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে শিশু এবং বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েছে। গরম কাপড় না পাওয়ায় শীতে আক্রান্ত হয়ে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছে। ফলে বাড়ছে শীতজনিত রোগের মাত্রাও।
 
এছাড়া সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। তবে সরকারি, সেবরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণও শুরু হয়নি। ফলে দুর্গত মানুষরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনো মতে দুর্ভোগ কাটাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনে শীত আরো বাড়লে এসব মানুষদের ভোগান্তিও বাড়বে ব্যাপক হারে।
 
নগরীর ছোট বনগ্রাম বস্তির বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘শীত তো ছিলই না। দুদিন ধরে হঠাৎ করে এলো। কিন্তু এই শীত তাড়ানোর কোনো কাপড় আমাদের বাড়িতে নাই।’ গরম কাপড় ছাড়া এই ঠাণ্ডা বাতাস তাড়াবো কি করে-প্রশ্ন করেন হযরত আলী।
 
সরেজমিন মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী নগরীতে ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে শীতের কবলে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেকেই গরম কাপড় না পেয়েই বিছানার কম্বল গায়ে দিয়েই বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। আবার অনেক রিকশাচালককে গত বছরের ছেঁড়া-ফাটা কাপড় পরে রিকশা চালাতে দেখা যায়। কাউকে কাউকে তেমন কোনো গরম কাপড় ছাড়ায় শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে কাজের সন্ধানে ঘুরতে দেখা যায়। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই