মতলবে মেঘনার অভয়াশ্রম অঞ্চলের নদীতে অবাধে মত্স্য শিকার

মাছের আড়তগুলো রমরমা

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম। এরমধ্যে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার। এ অঞ্চলের মেঘনা নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরার ব্যাপারে সরকার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মত্স্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেঘনার অভয়াশ্রমে মত্স্য শিকারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্টগার্ডসহ জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। এতদসত্ত্বেও মতলবের মেঘনায় অবলীলায় চলছে মত্স্য শিকার এবং উপজেলার মত্স্য আড়তগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে চলছে রমরমাভাবে। সকল প্রকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে এখানকার আড়তগুলো থেকে পিকআপে গাড়িতে করে মাছ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়।

দিনের আলোয় নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য অপেক্ষাকৃত কম দেখা গেলেও রাতের আঁধারে সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রমের মেঘনা থাকছে মত্স্য শিকারি জেলেদের দখলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটাই জানালেন কয়েকজন জেলে। ভোরের আলোয় মেঘনা নদীর তীরে সারি সারি নৌকায় ভর্তি ভিজা জাল লক্ষ্য করা যায়।

তবে এরমধ্যে ২৭ মার্চ বুধবার ভোরবেলায় সরেজমিনে উপজেলার এখলাছপুর লঞ্চঘাট থেকে কিছুটা দক্ষিণ দিকে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে, কেউ কেউ জাল পরিষ্কার করছে এবং নদীর পাড়েই মাছের পাইকারি বিক্রির আড়ত বসেছে এসবই যেনো একসাথে।

উপজেলার সর্ববৃহত্ মাছের আড়ত ষাটনলের বাবুবাজার মত্স্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে অসংখ্য পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল। মাছ বেচা-কেনার দাম-দরের কাজে ব্যস্ত সবাই। খানিকটা দূরে অপেক্ষমাণ কয়েকটি পিকআপ ভ্যান মাছ নিয়ে রাজধানী ঢাকা যাবার অপেক্ষায়। 

ষাটনল বাবুবাজার এলাকার মত্স্য আড়তের নেতা ভুদাই জানান, এই দুই মাস আড়ত চালাতে গেলে যেখানে যা লাগে তা দিয়ে আড়ত চালাতে হচ্ছে।

জেলে নেতা ওমর আলী প্রধান জানান, জাটকা অঞ্চলের জেলেদের পর্যাপ্ত সুবিধা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ সময়মতো জেলেদেরকে দিতে পারলে সরকারের উদ্দেশ বাস্তবায়ন সহজতর হতো। মতলব উত্তর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রম অঞ্চলে মত্স্য শিকার, বিক্রি, পরিবহন ও গুদামজাতকরণ সবই নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।