সিংড়া উপজেলা ছাত্রলীগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে চ্যালেঞ্জ

 
সিংড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নব-নির্বাচিত সভাপতি খালিদ হাসানকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে প্রদান করা তথ্যকে চ্যালেঞ্জে করে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। সেখানে জানানো হয়, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদের পক্ষে তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে এই বিষয়ে লেখা প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেবে উপজেলা ছাত্রলীগ।
 
 সেখানে বলা হয়, গত দুই দিন দেশের প্রথমসারীর বেশকিছু গণমাধ্যমে অনলাইনে এবং প্রিন্ট ভার্সনে ’জামায়াত আমিরের ছেলে ছাত্রলীগ সভাপতি’ শীর্ষক মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া  সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বেশকিছু নামী-বেনামী অনলাইনে এ সংক্রান্ত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যা সিংড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি খালিদ হাসানের রাজনৈতিক সম্মানহানির পাশাপাশি তার পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। আমরা উক্ত সংবাদ মাধ্যমসমূহে প্রকাশিত এ সকল সংবাদ প্রচারকে স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছি। এ ধরণের উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
 
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ৩ ডিসেম্বর সিংড়া উপজেলা, পৌর ও গোল-ই-আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, এস.এম. জাকির হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা-পৌর আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস্, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়।
 
IMG0
 
কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা। এ সময় বলা হয়, ফোনালাপে দেয়া তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে যা হলুদ সাংবাদিকতারই নামান্তর। 
 
৩রা ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিংড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনুসৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং খালিদ হাসান উক্ত নির্বাচনে ১২০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১২০ ভোট পেয়ে যে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তা কোন সংবাদে উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানানও হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদে বলা হয়েছিল, ‘স্থানীয় সাংসদ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের উপস্থিতিতে সম্মেলনে পরামর্শক্রমে নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়।’
 
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় এই তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কমিটি গঠনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়না বরং উক্ত সত্য ও বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে অসত্য ভাষণ প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।
 
সংবাদ সম্মেলনে খালিদের পিতা জামায়াতের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখে না দাবি করে বলা হয়, খালিদের পিতা রওশন আলী  জামায়াতের আমির নন, তার সাথে জামায়াতের কোন ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা আরো বলতে চাই, তার মা ফাহমিদা আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য এবং তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে জনপ্রিয় এক মুখ।
 
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। আর সে কারণেই উক্ত প্রতিবেদনসমূহের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকগণকে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে “খালিদ হাসানের পিতা রওশন আলী পৌর জামায়াতের আমির”, এই বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রতিবেদকগণ উক্ত সংবাদের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরএ