পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও মৃত্যু শয্যায় থাকা পরিবার নিঃস্ব

বাস আটক ও মামলা হলেও বাসের মালিকপক্ষ নিহত

কিংবা আহত পরিবারের পাশে নেই

বরিশাল অফিস

পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র নিহত ও মৃত্যু শয্যায় থাকা গরিব অসহায় পরিবারের পাশে নেই ঘাতক বাস কর্তৃপক্ষ। গত ৭ মার্চ রাত ৮টায় বেপরোয়া ব্যাপারী পরিবহনের বাস বাইসাইকেলের চালক স্কুলছাত্র মিরাজ ও তার খালাতো ভাই শাহাদাতকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ৮ম শ্রেণির ছাত্র মিরাজকে মৃত ঘোষণা করে। মিরাজের বাবা বধির (বোবা) হওয়ায় মা স্থানীয়দের সহযোগিতায় পটুয়াখালী থানায় পরদিন মামলা দায়ের করেন। গুরুতর আহত নিহত মিরাজের খালাতো ভাই মো. শাহাদতকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করলেও ঘটনার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও ব্যাপারী বাস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া নিহত কিংবা চিকিত্সাধীন আহতের পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

পটুয়াখালী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর ব্যাপারী পরিবহনের বাসটি আটক থাকা ও এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও বাস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি পুলিশকে। বাসটি এভাবে পড়ে থাকলেও কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাদের সাথে।

পটুয়াখালী বধির কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রাশিদা বেগম জানান, নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী মিরাজের পিতা একজন বধির ও দিনমজুর। দুর্ঘটনার পর সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকলেও ঘাতক বাস কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করছে না বরং তারা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা করবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, বধির ও দিনমজুর পিতা ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন। এ ছাড়াও গুরুতর আহত শাহাদাত মৃত্যু শয্যায় রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের পাশে সহযোগিতার জন্য কেউ নেই।