দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউয়েন হাইকে একচ্ছত্র নির্বাহী ক্ষমতা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পার্লামেন্টের সদস্যদের তাকে অভিশংসিত করার পক্ষে ভোট দেয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
তবে পার্ককে আপাতত নির্বাহী ক্ষমতা থেকে সরানো হলেও তাকে চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে কিনা কিংবা তার সরকারকে ফেলে দেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে একমাত্র দেশের সাংবিধানিক আদালত। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আদালতকে। পার্কের সরকার পড়ে গেলে ষাট দিনের মধ্যে দেশে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। পার্ককে চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে আদালতের নয় বিচারকের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের অনুমোদন লাগবে।
একটি সংবাদপত্রে সাংবিধানিক আদালতের নয় বিচারকই পার্ক ও তার নিজ দলীয় পূর্বসূরি লি মিঊং-বাকের হাতে নিয়োগ পাওয়া উল্লেখ করে আদালতের সিদ্ধান্ত পার্কের পক্ষে যেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হোয়াং গিও-আন অস্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্টের কাজ চালাবেন। ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তিনি দেশকে সুষ্ঠুভাবে চালিত করার চেষ্টা করবেন। দেশের সেনা প্রধানের দায়িত্বও এখন সাময়িকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই পড়েছে।
বেশ কয়েক মাস ধরে পাকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছিল। তাই চাপ বাড়ছিল পার্লামেন্টের ওপর। পার্কই প্রথম নন, এর আগেও ২০০৪ সালে এক প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে প্রবল জনরোষের পর তাকে ফের ক্ষমতায় ফেরানো হয়। মূলত দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে পার্কের বিরুদ্ধে। নিজের বান্ধবী ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী চই সুন-সিলকে সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সামিল করতেন পার্ক। এই বান্ধবীর বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি পার্কের।
তবে তার বাবাও আঠারো বছর ধরে দেশের শাসনভার সামলেছেন। ১৯৭৯ সালে খুন হন তিনি। তারও আগে খুন হন পার্কের মা। এতিম পার্কের তাই অভিভাবকের মতো ছিলেন চইয়ের বাবা চই তাই-মেন। চইয়ের পরিবারের প্রতি তিনি নানাভাবে কৃতজ্ঞ, তা একাধিক বার স্বীকারও করেছেন পার্ক।
IMG0
অভিশংসন হতে চলেছে বুঝে আগেই বেশ কয়েক বার দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন পার্ক। তাঁর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা চই লিখে দিয়েছিলেন বলেও মেনে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু চইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ কোনোভাবেই মানতে চাননি পাক। তার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
অভিশংসন নিয়ে ভোটের সময় হাজার দশেক প্রতিবাদী মানুষ পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হন। কেউ কেউ তো কাল রাতেই চলে এসেছিলেন। প্রবল শীতের মধ্যেও তারা রাস্তায়ই রাত কাটিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্যাবিনেট বৈঠকে পার্ক বলেছেন, ‘দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার অজ্ঞতার জন্যই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।’ এএফপি।
ইত্তেফাক/এসএসএ