বিজয়ের ৪৫ বছরেও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় চিহ্নিত হয়নি শহীদদের গণকবর। এমনকি নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক। অথচ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে ঢাকার বাইরে দেশের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়েছিল মির্জাপুরে। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মির্জাপুর উপজেলা সদরে এবং ৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১১ নং সেক্টরের অধীনে এখানে যুদ্ধ হয়। আজাদ কামাল বীর বিক্রমসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়েছিলেন। মির্জাপুরে রাজাকার কমান্ডার ছিলেন সদরের মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ। ৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় দখলদার সেনারাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানি বাহিনীর ৩৫০ জন সদস্য হতাহতের পর গোড়ান-সাটিয়াচড়া শত্রু মুক্ত হয়। কিন্তু হানাদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসে মির্জাপুর উপজেলা সদর, মির্জাপুর সাহাপাড়া, বাঙ্গলা, তরফপুর, ভড়রা ও নরদানা গ্রামে। ১২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা মির্জাপুরের বংশাই, লৌহজং নদীর দুই পাশ ও অন্যদিক থেকে দখলদার সেনাদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ। ১৩ ডিসেম্বর মুক্ত হয় মির্জাপুর।
ঢাকার বাইরে মির্জাপুরে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থানে দীর্ঘ ৪৫ বছরেও বদ্ধভূমি সংরক্ষণ ও গণকবরের স্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মাণ হয়নি স্মৃতিফলক। তবে ৩ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ স্মৃতি সংসদ গোড়ান, সাটিয়াচুড়া ও পাকুল্লা গ্রামবাসী প্রতিবছর দিবসটির স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
২নং জামুর্কী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল ও স্মৃতি সংসদের সভাপতি গোলাম সওজব পাওয়ার চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির মির্জাপুরের গোড়ান সাটিয়াচুড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থানে গণকবর সংরক্ষণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ ও মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মির্জাপুরে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্থান পরিদর্শন ও গণকবরগুলোর স্থান সংরক্ষণ করে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণসহ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই গণকবর সংরক্ষণ, স্মৃতিফলক তৈরি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন