আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) এর ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজ, আইনি সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন সহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মত দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও এক্টিভিস্টরা। এ ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও তারা মত দিয়েছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) আয়োজিত 'রাষ্ট্রীয় আইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের মডেল: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) এর সংগ্রাম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ' শীর্ষক সংলাপে এ মতামত উঠে আসে। এ ছাড়াও, যুদ্ধাপরাধ ও বিচার বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা কাজে আরো মনোযোগ দিতে হবে, সাক্ষীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে হবে ও তদন্তাধিন অভিযোগগুলোর মামলা চালানোর জন্য ট্রাইব্যুনাল এর সংখ্যা বৃদ্ধির পক্ষেও মত দেন তারা।
আজ থেকে চার দশক আগে একটা দেশ তার জন্মের সময় ভয়ঙ্কর গণহত্যার শিকার হওয়ার পরও যে স্বাধীনতা অর্জন করে সে গণহত্যার বিচার চেয়েছে। ২০০৯ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিচার শুরুও হয়েছে এবং শিগগিরই এ প্রক্রিয়া সপ্তম বর্ষে পদার্পণও করতে যাচ্ছে। তাই ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবিক অপরাধের এ ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া বহু দশকের সম্মিলিত আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল। এ পর্যন্ত শত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার পরও এখন মোট ২৭টি মামলার রায় দেয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটিকে আরো এগিয়ে নিতে ও প্রাপ্য মহিমার অবস্থানে নিয়ে যেতে, এবং এ প্রক্রিয়ার ফলাফলকে ন্যায়বিচারের ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদার অবস্থানে অধিষ্ঠিত করতে এখনও অনেক পথ বাকি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার শাহ আলি ফরহাদ। মূল বক্তব্যের উপর আলোচনায় অংশ নেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, রানা দাশ গুপ্ত, সুলতান মাহমুদ সিমন ও তাপশ কান্তি বাউল।এছাড়াও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক ও অনলাইনে যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রচারণার সক্রিয় কর্মী সহ অন্যরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে একাত্তরে ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার ভিকটিমরা প্রায় ৪০ বছর পর বিচার পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। তারা সকলেই এ ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার বিষয়ে জোর দেন। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেও এই কাজটি করা যেতে পারে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার বলেও তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী, তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধি, অনলাইনের সক্রিয় কর্মী, সাংবাদিক সহ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছাড়াও বিশ্বের আরো ২২ টি শহরের শতাধিক মানুষ সরাসরি ও প্রত্যক্ষ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল।
আইসিএসএফ (ICSF) হল বিশেষজ্ঞ, সক্রিয় কর্মী, এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারহীনতা নিরসন, ভিকটিমদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে গত অর্ধ-যুগেরও বেশী সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/আরএ