বহুল আলোচিত হাতিরঝিলের অবৈধ ভবনটি আগামী মাসের ১২ তারিখের মধ্যে ছেড়ে উত্তরায় নতুন ভবনে যাচ্ছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আগামী ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। উত্তরার তৃতীয় পর্বের ১৭ নম্বর সেক্টরে (দিয়াবাড়ি এলাকায়) নির্মাণাধীন নতুন ভবনটির ইতিমধ্যে চারটি ফ্লোর তৈরি হলেও আপাতত ব্যবহারের জন্য দুটি ফ্লোর প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গ্যাস, পানি, বিদ্যুত্, যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার কাজও দ্রুতলয়ে এগিয়ে চলছে।
হাতিরঝিলে ভবনটি আদালত কর্তৃক চূড়ান্ত রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়। একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি ছাড়তে সময় বেঁধে দেয় উচ্চ আদালত। যোগাযোগ করা হলে গতকাল বুধবার বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ৩ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন। আর আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই হাতিরঝিলের ভবনটি ছেড়ে নতুন ভবনে চলে যাব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, একই কাঠামোর উপরে ১৩তলা দুটি টাওয়ার তৈরি হচ্ছে। পুরো ভবনটি তৈরি হওয়ার পর বড় আকারের অডিটরিয়াম, এক্সিবিশন সেন্টার, শোরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকবে। ভবনটিতে তিন দিক থেকে যাতায়াতের সুুবিধা থাকবে। উত্তরার মাসকট প্লাজা রোড ছাড়াও উত্তরা জসিম উদ্দিন রোড এবং মিরপুরের ডিওএইচএস দিয়ে হবে আরো দুটি রাস্তা। ভবনের আয়তন হবে চার লাখ ৬৪ হাজার বর্গফুট।
উত্তরায় ভবনের জন্য সরকারের সহযোগিতায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকে ক্রয় করা হয়।
২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই ভবনটি অবৈধ হিসেবে রায় দিয়ে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়। দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ ওই আবেদন খারিজ করে রায় দেয়। এরপর একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি স্থানান্তরের বিষয়ে মুচলেকা দেওয়া হয় বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে।
অবশ্য বিজিএমইএ চলে যাওয়ার পর ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে কিনা, তা এখনো ঠিক হয়নি। যদিও আদালতের রায়ে ভবনটি বিজিএমইএ’র খরচেই ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে। ভবন ছাড়ার পর এ দায়িত্ব পালন করার কথা রাজউকের।