কক্সবাজারে দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিসহ বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এবিষয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
কক্সবাজার:কক্সবাজারের টেকনাফ ও পেকুয়ায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি ও জলদস্যুসহ চারজন নিহত হয়েছে। বুধবার ভোররাতে পৃথক সময়ে বিজিবি ও র?্যাবের সঙ্গে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা, দুইটি ধারালো কিরিচ, ৮টি অস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফে নিহতরা হলো- কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (২৫) ও বালুখালী ক্যাম্পের মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. ফারুক মিয়া (২৬)। তাদের গলায় রোহিঙ্গা কার্ড ছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় তারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে মিয়ানমারে আসা যাওয়া করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অন্যদিকে পেকুয়ায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, প্রতিদিনের মতো টহলকালে বুধবার ভোরে বিজিবির একটি দল টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালীর খারাংখালী নাফনদী সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় দুই ব্যক্তিকে নদী পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টারত দেখতে পায়। কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুড়ে। এসময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এর কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ থেমে গেলে ঘটনাস্থলে দুইজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা। এসময় তাদের পুটলি তল্লাশি করে এক লাখ নব্বই হাজার পিস ইয়াবা ও দুইটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত এসএম দোহা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অপরদিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট এলাকায় বুধবার র?্যাব-৭ এর টহল দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জলদস্যু নিহত হয়েছে।
র?্যাব-৭ চট্টগ্রামের কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, মগনাঘাট এলাকায় একদল জলদস্যু জড়ো হয়েছে জানতে পেরে র?্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা গুলি ছুড়লে র?্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ ও ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো পেকুয়া থানা পুলিশকে দেওয়া হয়।
পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব বাদি হয়ে মামলা করেছে।
নরসিংদী: নরসিংদীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিকুল ইসলাম শফিক (৩৫) রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গত ২৬ মার্চ রাতে র্যাব-১১ এর সদস্যরা ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিকুলকে গ্রেফতার করতে গেলে উভয়ের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। গোলাগুলিতে নূর আলম নামে র্যাবের এক সদস্য আহত হন।
র্যাব জানায়, নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া শিববাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিকুল তিনটি হত্যা মামলা, চারটি অস্ত্র মামলাসহ অন্তত এক ডজন মামলার পলাতক আসামি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুলের অবস্থান জানতে পেরে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মাটিকাটা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। পাঁচতলা ভবনটি তল্লাশিকালে চিলেকোঠার একটি কক্ষ থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে সন্ত্রাসীরা। এ সময় র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে শফিকুল গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রদীপ ও ফারুক নামে দুইজনকে আটক এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬ রাউন্ড গুলি ও অসংখ্য গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শফিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গী (গাজীপুর): টঙ্গীর বাশপট্টি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কাওসার মিয়া (৩০) নামে এক চিহ্নিত ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক এস আইসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত কাওসার মিয়ার বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার একদল পুলিশ বাশপট্টি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ওই এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী কাওসারের নেতৃত্বে একদল ছিনতাইকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এস আই জহিরুল হক ও কনস্টেবল মো. বদরুল আহত হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ছিনতাইকারী দলের প্রধান স্থানীয় এরশাদ নগর এলাকার ৬নং ব্লকের বাসিন্দা মিন্টু মিয়ার ছেলে কাওসার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে গতকাল সকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটার গান, এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি ধারালো ছোরা ও একটি বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা উদ্ধার করে। আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন আনন্দ মিছিলসহ জনসাধারণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে।