দিনমজুরের টাকায় সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা হায়বাত আলীর

অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রাণের ভয় ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পর যথাযথ নথিপত্র থাকা সত্বেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি হায়বাত আলী (৬৮)। মুক্তিযোদ্ধা হায়বাত আলী উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

 
মুক্তিযুদ্ধের এই বীরসেনানীর নির্মম বাস্তবতা বৃদ্ধ বয়সেও এখন দিনমজুরের টাকায় সংসার চলে তার। দেশের জন্য আত্মত্যাগী এই বীর যোদ্ধার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়,স্বাধীনতা যুদ্ধ পূর্ববর্তী ১৯৬৯ সালে বাড়ী থেকে রাগ করে তিনি কুষ্টিয়াতে গিয়ে কুষ্টিয়া শহরতলীর মোহিনী মিল সংলগ্ন আনছার ট্রেনিং ক্যাম্পে কমান্ডার তাবিদুর রহমানের অধীনে ট্রেনিং নেয়া শুরু করেন। ১ মাসের ট্রেনিং শেষে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ২ রাউন্ড গুলি সফলভাবে ফুটিয়ে চাঁনমারী সম্পন্ন করেন।
 
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা খ্যাত মারফত আলীর নির্দেশে ভারতের করিমপুরে প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য যান। এরমধ্যে দেশে চরম বিশৃংখ্লা দেখা দিলে সেখানে ১৬ দিনের ট্রেনিং চলাকালে মারফত আলীর নির্দেশে নিজ এলাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার ইয়াসীর সর্দার (হিদিরাপুর), নজরুল (কাকিলাদহ), আফসার মালিথা, আফসার মন্ডল, গঞ্জের, দাউদ (শ্রীরামপুর), হায়দার আলী, ছলেমান মাষ্টার (চক), ইয়াসীন মল্লিক, আরশেদ (মাগুরা)সহ ১৫/১৬ জন করিমপুরে ট্রেনিংগ্রহণ অবস্থায় দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
 
পরবর্তীতে হায়বাত আলী তাদের সঙ্গে নিজ এলাকা কাকিলাদহ ছাড়াও পাশ্ববর্তী খলিশাকুন্ডি, গাংনীর বোয়ালীয়া বাজার ও চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর এলাকার রাজাকারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বীকৃতিস্বরূপ হায়বাত আলীর কাছে আতাউল গনী ওসমানী স্বাক্ষরীত সনদ পত্র, তোফায়েল আহমেদ স্বাক্ষরীত সনদ পত্র, ১ নভেম্বর ১৯৬৯ সালে তৎকালীন আনছার ক্যাম্প কমান্ডার তাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদ পত্র, ২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ডেপুটি কমান্ডার মারফত আলী স্বাক্ষরীত সনদ পত্র, ভারতের করিমপুরে কোম্পানী কমান্ডার এম খলিল আহমেদ খুকু স্বাক্ষরিত সনদপত্র প্রমাণস্বরুপ রয়েছে।
 
হায়বাত আলী আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেবার নাম করে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। এরমধ্যে প্রায় ২০ বছর আগে নিজ এলাকা সদরপুর ইউনিয়নের মোচাইনগর গ্রামের এক প্রভাবশালী নেতা তার কাছে ৮ হাজার টাকা দিতে বলে। সরল বিশ্বাসে সে বাড়ীর শেষ সম্বল ৮ কাঠা জমি বিক্রি করে ওই নেতার হাতে ৮ হাজার টাকা তুলে দিয়ে প্রতারিত হন।
 
হায়বাত আলীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে এলাকার মুনছুর আলী, হাফিজুল ইসলাম ও আয়ুব আলীর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই তিন মুক্তিযোদ্ধা জানান, হায়বাদ আলী তাদের সঙ্গে সহযোদ্ধা হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
 
হায়বাত আলী প্রসঙ্গে মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার নজরুল করীম বলেন, আমার জানামতে হায়বাত আলী সময়মত কাগজপত্র যথাযথ দপ্তরে প্রদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
 
ইত্তেফাক/এএন