গোলানকে ইসরাইলের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই —এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের হাতে তুলে দেওয়ার কোনও অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে এক নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

এরদোগান বলেন, ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে তার দেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে গোলান মালভূমি নিয়ে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে বাড়তি সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সম্পূর্ণভাবে সিরিয়ার অংশ। এখন যুক্তরাষ্ট্র এই ভূখণ্ড ইসরাইলকে দিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু সেই অধিকার তাদের নেই।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি, রাশিয়া কিংবা চীন কেউই স্বীকৃতি দেয়নি। সাহস নিয়ে সত্য বলা আমাদের দায়িত্ব। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিষয়ক দূত মিখাইল  বোগডানোভ বলেছেন, গোলান নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্ব স্বীকার করে না। আমাদের এ সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা নেই।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্বের পক্ষে ট্রাম্প যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফ্রান্স এই দখলদারিত্ব স্বীকার করে না।

জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে কানাডা। লেবাননের  প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, অন্য দেশের ভূখণ্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বিদেশি নেতাদের  নেই।

এর আগে ২৫ মার্চ  সোমবার আনুষ্ঠানিক দখলকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিন এ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।