সিরিয়ার আলেপ্পোতে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় বাশারের অনুগত বাহিনীর অভিযানে সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আলেপ্পো থেকে আটকা পড়াদের সরানোর কাজ হঠাৎ স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।
নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের আহবান জানিয়ে ওবামা আলেপ্পোয় বিভীষিকার নিন্দা জানান এবং বাশার আল-আসাদকে হুঁশিয়ার করে বলেন, এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তিনি কখনো বৈধতা পাবেন না।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, আলেপ্পোতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশ রাশিয়া এবং ইরানের বর্বর হামলার বিরুদ্ধে প্রায় সারা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ।
এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন হুঁশিয়ার করে বলেন, আলেপ্পো নরকে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, সেখানে আটকে পড়া লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ পুনরায় শুরু করতে জাতিসংঘ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছে।
আলেপ্পোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ রেখে ফ্রান্স প্রণীত খসড়া প্রস্তাবের ব্যাপারে এ সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা পরিষদে ভোট হতে পারে।
এদিকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী অবরুদ্ধ পূর্ব আলেপ্পো থেকে গুরুতর আহত বিদ্রোহী যোদ্ধা ও বেসামরিক লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার তা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি বাহিনী বলেছে, বিদ্রোহীরা সন্ধির শর্ত ভেঙে ভারি অস্ত্র এবং তাদের হাতে জিম্মি থাকা লোকজনকে নিয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করছে বলেই আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের বের হওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আলেপ্পো থেকে অবরুদ্ধ বিদ্রোহী ও বেসামরিক লোকদের বের করে দেয়া শুরু হয়। গুরুতর আহত ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে সাড়ে আট হাজারের মতো মানুষকে সরানো হয়।
শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। লোকজনকে বের করে নিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এখনো পূর্ব আলেপ্পোতে ৫০ হাজারের মতো লোক আটকা পড়ে আছে।
আলেপ্পোর সরকার-নিয়ন্ত্রিত উপকণ্ঠ রামুসা দিয়ে আটকে পড়া লোকদের সরানো হচ্ছিল। এএফপির একজন সংবাদদাতা বলেছেন, গতকাল সকালে তিনি রামুসায় ভারি গোলা ও উপর্যুপরি গুলিবর্ষণের শব্দ শুনেছেন।
বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের সন্ধি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এমন একজন কর্মকর্তা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্রোহীরা সন্ধির শর্ত বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাদের হাতে জিম্মি হওয়া লোকজন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর: এএফপি।
ইত্তেফাক/এএসএস