‘আমার বাবা নুর আহমদকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘরে আগুন দিয়ে চার বছর বয়সী ছোট ভাই আরকায়াকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। পরে তারা ধারালো কিরিচের ভয় দেখিয়ে আমাকে এবং পাশের বাড়ির আরো দুইজনকে একটি খালি ঘরে বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে।
এ পৈচাশিক নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন শনিবার ভোর রাতে মংডুর জামবনিয়া থেকে এসে কুতুপালং বস্তিতে মা ও তিন ভাইসহ আশ্রয় নেয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী।
সে জানায়, তাদের মতো সর্বস্ব হারিয়ে টেকনাফের হ্নীলা পয়েন্ট দিয়ে দুইটি নৌকায় আরো ১০ পরিবারের ৫০ জন রোহিঙ্গা তাদের সঙ্গে এসেছে। এখন পর্যন্ত তারা কিছুই খেতে পারেনি।
কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার ফয়সাল আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বর্মী সেনারা কাউয়ারখোপ গ্রামের আরো ছয়টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। সহায় সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। যে কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থামছে না। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নিলেও এরা কোনো রকম ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। প্রশাসনের অগোচরে কেউ কোনো ত্রাণ সামগ্রী, নগদ টাকা পয়সা বিতরণ করলে বস্তি নেতা নামধারী আবু ছিদ্দিক তা কেড়ে নিচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে।’
তবে ওই রোহিঙ্গা নেতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কুতুপালং বস্তি ও ক্যাম্প এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। অনিয়ন্ত্রিত এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই সড়ক পথে বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে শুরু করেছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ত্যাগ প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। এ কথার সত্যতা মিললেও রোহিঙ্গারা ঠিকই যার যার অবস্থানে চলে যাচ্ছে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ