যানবাহনের চাপে যখন পীরগঞ্জ পৌর শহরের রাস্তা আরো সম্প্রসারণ করার জোর দাবী উঠেছে তখন ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ রাস্তার জমিতে মার্কেট নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করে রাস্তা আরো সংকুচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে এলাকার জনমনে জেলা পরিষদের দূরদর্শিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ পীরগঞ্জ পৌর শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম পূর্ব চৌরাস্তা হতে ডাকবাংলো পর্যন্ত সড়কের পূর্ব পার্শ্বে ‘রেকর্ডেড’ রাস্তায় মার্কেট নির্মাণের জন্য গত ০৩/০৮/২০১৬ইং তারিখে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (নং০২/২০১৬-১৭) আহ্বান করেন যা ঢাকার দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৬ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত ভূমি রেকর্ড করেন এবং সিএস ম্যাপ প্রকাশ করেন। উক্ত ম্যাপে আলোচ্য মার্কেট নির্মাণের স্থানটি বাস্তবে বর্তমান পাকা রাস্তা থেকে পূর্বদিকে মাত্র ৩০ ফুট। এই স্থানটিতে বর্তমানে বাস-ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস এবং পাগলু, ইজিবাইক, রিক্সা, ভ্যান প্রভৃতি থ্রি-হুইলার পার্কিং করা হচ্ছে। এই স্থানটিতে জেলা পরিষদের পরিকল্পিত মার্কেট নির্মিত হলে ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারণ কিংবা উপরে বর্ণিত মোটরযান ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিংয়ের কোন সুযোগ থাকবে না। ফলে পূর্ব চৌরাস্তায় যানজট স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে তৎকালীন দূরদর্শী ব্রিটিশ প্রশাসন সিএস ম্যাপে অর্ধ শতাব্দী পরে রাস্তার চাহিদা কি হতে পারে তা বিবেচনা করে পূর্ব চৌরাস্তায় ৭২ ফুট জায়গা রাস্তা হিসেবে রেকর্ড করেন। অন্যান্য স্থানে রাস্তার উভয় পার্শ্বে নয়ন জলি নামে পর্যাপ্ত জমি জনসাধারণের চলাচল ও ব্যবহারের জন্য রাখা হলেও পীরগঞ্জ পূর্ব চৌরাস্তায় কোন নয়নজলি রেকর্ড করা হয়নি। যদিও ব্রিটিশ রেকর্ডের সময় ডিসি, এসপি, এসডিও ও এসডিপিও’র জীপ গাড়ী ছাড়া অন্য কোন মোটর যানবাহন এ রাস্তায় চলাচল করত না। বর্তমানে এ রাস্তায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করার কারণে যখন রাস্তা চওড়া করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে তখন ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ রাস্তার জমিতে মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার আহবান করে রাস্তা সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছেন। পীরগঞ্জের জনসাধারণ মার্কেট নির্মাণে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের উদ্যোগ জনস্বার্থে পুনর্বিবেচনা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রশাসক সাদেক কুরাইসি জানান, পীরগঞ্জ পূর্ব চৌরাস্তায় মার্কেট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত রাস্তাটি কোথাও ৭২ ফুট আবার কোথাও ৯০ ফুট চওড়া। তাই মার্কেট নির্মাণে কোন অসুবিধা হবে না। বরং মার্কেটে কিছু লোকের কর্মসংস্থান হবে।
ইত্তেফাক/আরএ