সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন পূর্ব কোর্টগাঁও গ্রামে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় অজয় দাস ও আকাশ নামে দু’যুবক আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
শনিবার সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজীম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দত্ত, রশুনিয়া হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. রনবীর ঘোষ ও পুলিশ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ব কোর্টগাঁও গ্রামের বাৎসরিক কালীপূজার পরের দিন মহোৎসব এবং এর পরের দিন মৎস্যমুখী (মাছ খাওয়া) অনুষ্ঠান পালন করা হয়। গত মঙ্গলবার পূজা শেষে গত শুক্রবার দুপুরে মৎস্যমুখী শেষে রাতে গান বাজনা চলছিল। রাত সাড়ে ১০ দিকে কালারায়ের চর গ্রামের আক্রাম আয়োজনটিতে এসে মদ চায়। তা না পেয়ে ১০/১২জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুর করে। অজয় দাস(২০) জানান, রাতে নাচগান চলার সময় মন্দির ডেকে পাশের আলু ক্ষেতে ডেকে নিয়ে মদ চায়। এখানে মদের কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানালে বকাঝকার এক পর্যায়ে মন্দিরের প্রসাদ তৈরিতে রান্না করতে আনা চলা দিয়ে আমাকে পিটায়। পরে চিৎকার শুনে আকাশ বাঁচাতে আসলে তাকেও চলা দিয়ে পিটিয়ে হাত পা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় আক্রাম ও তার লোকজন পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে। পরে মন্দিরের লোকজন ছুটে এসে আক্রাম শেখকে ধরলেও বাকিরা সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুখরঞ্জন মনি দাস বলেন, মারপিটের ঘটনা শুনে আমি মন্দিরে এসে দেখতে পাই পাশের গ্রামের আবুলের ছেলে আক্রামকে ওরা আটক করেছে। বিষয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দত্ত, আব্বাস মেম্বার ও সিরাজদিখান থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। এরই মধ্যে এলাকার ইকবাল হোসেন নামে এক ছেলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে আক্রামকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে পূজার তিনদিন পরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় এলাকা জুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অজয় চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি এড. শমরেশ নাথ।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত কোন অভিযোগ এখনও আসেনি, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরএ