রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার মনিচত্বর এলাকার (গুড়পট্টি) একটি পুরাতন বাড়ির ভাঙার সময় ওই বাড়িতে থাকা একটি পুরানো লোহার সিন্দুক নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই সিন্দুকের মধ্যে গোপন সম্পদ (গুপ্তধন) রয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ওই বাড়ি ও সিন্দুক নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষ সিন্দুকটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। ফলে সামনের সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, মনিচত্বর এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে ইতোপূর্বে স্টুডিও, স্বর্ণের দোকান ও থাই এ্যালুমিনিয়ামের দোকান এবং কোচিং সেন্টারের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছিল। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে থেকে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছিল।
IMG0
বাড়ির মালিকের স্ত্রী শাহানারা রোজী জানান, লোহার সিন্দুকটি ব্রিটিশ আমলের। সেটি অনেক দিন থেকেই তাদের বাড়ির সিটি ঘরে ছিল। বাড়ি ভাঙার আগে অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক ভারি হওয়ায় তারা সিন্দুকটি নিয়ে যেতে পারেননি। ভেবেছিলেন বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ হলে নিয়ে যাবেন। কিন্তু রবিবার বাড়ি ভাঙার শেষ পর্যায়ে ওই সিন্দুকে গুপ্তধন আছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, ওই লোহার সিন্দুকে কোনো গুপ্তধন পাওয়া যায়নি। বাড়ির মালিকের বাপের আমল থেকে সিন্দুকটি ওই বাড়িতেই ছিল। বাড়ির মালিক শাহানারা বেগম রোজীসহ উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে চাবি বানানোর মিস্ত্রী দিয়ে তালা খুলে ওই সিন্দুকের মধ্যে পুরনো কিছু কাগজপত্র, কয়েকটি ২০ টাকার নোট ও কয়েন ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী জাদুঘরের সাবেক কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বলেন, এটা ব্রিটিশ আমলের একটি লোহার সিন্দুক। অনেক ভারী হওয়ায় সহজে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
তালার মিস্ত্রী শাহজাহান বলেন, সিন্দুকটি তিন থেকে চারটি তালা লাগানো ছিল। সেই তালাগুলোর মধ্যে দুইটি ভেঙে বাকীগুলো মালিকের কাছে থাকা চাবি দিয়ে খোলা হয়। ভেতরে কিছু কাগজপত্র ও ২০ টাকার কয়েকটি নোট ও কিছু আগের কয়েন পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/ইউবি